বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি: সিলেটের বিয়ানীবাজারের চারখাই ইউনিয়নের সাচান গ্রামে পূর্ব শত্রুতা ও জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে লন্ডনপ্রবাসী এক ব্যক্তির বসতবাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা এবং বিদ্যুৎস্পৃষ্ট করে তার মা রমনা বেগমকে গুরুতর আহত করার অভিযোগ করা হয়েছে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, গত বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার এক এলাকায় লন্ডনপ্রবাসী আব্দুল হাসিবের বসতবাড়িতে ১৮ থেকে ২০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। অভিযোগ রয়েছে, আরিফ ও আলকাছ আলীর নেতৃত্বে হামলাকারীরা বাড়িতে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা করেন।
এ সময় পরিবারের সদস্যরা হামলা প্রতিরোধের চেষ্টা করলে আব্দুল হাসিবের বড় ভাই আব্দুল বাসিতকে মারধর করে আহত করা হয়। একই সময় তার মা রমনা বেগমকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট করে অচেতন অবস্থায় ফেলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
রমনা বেগমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত সিলেটের ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার বিকেল ৫টার দিকে তিনি মারা যান বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, আব্দুল হাসিব ও তার পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী আরিফ, আলকাছ আলী ও ইলাতুন বিবিসহ কয়েকজনের দীর্ঘদিন ধরে জমি-জমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। অভিযোগ রয়েছে, ২০১৭ সাল থেকে বিরোধের জেরে হাসিব ও তার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন সময় হুমকি-ধমকি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়ে আসছিল। বিষয়টি মীমাংসার জন্য একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে দাবি পরিবারের।
এদিকে হামলার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি বিশেষ টিম মোতায়েন করা হয়েছে।
বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, বুধবার সকালে লন্ডনপ্রবাসী এক যুবকের বাড়িতে হামলার খবর তারা পেয়েছেন। ঘটনায় দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়। পরে আহত নারী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশকে জানানো হয়েছে।
ওসি আরও জানান, মৃত্যুর ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
তবে হামলা ও হত্যার অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা এবং দায়ীদের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।