
সিলেটে আবারও টিলা ধ্বসের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। সিলেট বিভাগে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। টানা বর্ষণের কারণে বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে অধিদপ্তর। একই সময়ে দেশের আরও তিন বিভাগেও ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) দুপুর ২টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার জন্য জারি করা ভারি বৃষ্টিপাতের সতর্কবার্তায় আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সিলেট, চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি (৪৪-৮৮ মিলিমিটার) থেকে অতিভারি (৮৮ মিলিমিটারের বেশি) বৃষ্টিপাত হতে পারে।
এ অবস্থায় সিলেট বিভাগের টিলা ও পাহাড়সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অতিভারি বৃষ্টির কারণে নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা এবং পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানায়, উড়িষ্যা ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ ঝাড়খন্ড এলাকায় অবস্থানরত মৌসুমি নিম্নচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে সরে গিয়ে বর্তমানে দক্ষিণ ঝাড়খন্ড ও সংলগ্ন উড়িষ্যা এলাকায় স্থল নিম্নচাপ হিসেবে অবস্থান করছে। এটি আরও পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও আশপাশের এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্য তৈরি হয়েছে।
সিলেটে ঝুঁকি নিয়ে টিলার পাদদেশে বসবাস করেন কয়েক হাজার মানুষ। এ সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। সিলেট নগর, সদর, গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজারসহ কয়েকটি উপজেলার টিলাগুলোতে এমন ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস করতে দেখা যায়।
প্রতিবছরই বর্ষা মৌসুমে সিলেটে টিলা ধ্বসে হতাহতের ঘটনা ঘটে। তবে দরিদ্র এই মানুষজনকে পুনর্বাসনের তেমন উদ্যোগ নেই। যদিও ২০১২ সালে সিলেটের পাহাড় টিলা সংরক্ষণে উচ্চ আদালতের এক রায়ে টিলার উপর ও পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করা দরিদ্র জনগোষ্ঠিকে পুণবার্সনের নির্দেশনা দেয়া হয়।
সবশেষ ২০২৪ সালের জুনে সিলেট নগরের মেজরটিলা এলাকার চামলিবাগে একটি টিলা ধসে মাটি চাপা পড়ে একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত হন।