স্টাফ রিপোর্টার:
সিলেটের সদর উপজেলার বহুল আলোচিত কামাল আহমদ হত্যা মামলায় তিনজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং অপর পলাতক আসামীগনকে ১৪ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে অর্থদণ্ডও প্রদান করা হয়েছে।
সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৩য় আদালতের বিচারক জনাব নজির আহমদ ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ এই রায় ঘোষণা করেন। আদালতের রায়ে সিলেট সদর উপজেলার মীরপুর গ্রামের ময়না মিয়ার ছেলে ইব্রাহিম আলী, একই গ্রামের সাইম উদ্দিনের ছেলে ফয়সল আহমদ ও আব্দুল খালিক এর ছেলে সিলাম উদ্দিনকে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় কামাল আহমদকে হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।
এছাড়া মামলার অপর পলাতক আসামী সিলেট সদর উপজেলার মীরপুর গ্রামের মৃত ইসকন্দর আলীর ছেলে আব্দুল মনাফ এবং একই গ্রামের হাজী আনছার আলীর ছেলে ইমরান আহমদ, আব্দুল মালিকের পুত্র শামীম আহমমদ, কান্দিগাঁও গ্রামের হুছন আলীর পুত্র সাব উদ্দিন, ভুলাই মিয়ার পুত্র আব্দুস শহীদ, ছখই মিয়ার ছেলে পাবেল আহমদ, মৃত সমুজ আলীর ছেলে আমির আলী, মৃত সোনাফর আলীর ছেলে আব্দুল মন্নান, ইসমাঈল আলীর ছেলে মিয়াদ হোসেন এবং মীরপুর গ্রামের মুরতজ আলীর ছেলে নাজমুল হোসেনকে দণ্ডবিধির ১৪৩/৩০৭/৩০২/৩৪১ ধারায় প্রত্যেককে ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড, ৩০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। আসামীগন পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করেছে আদালত, আদালতে আত্মসমর্পণ বা গ্রেফতার হওয়ার দিন থেকে তাদের সাজা গণনা শুরু হবে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ১৫/০৭/২০২৩ইং তারিখ দুপুর অনুমান ১২.০০ ঘটিকার সময় আসামী মোঃ ইব্রাহিম আলীর সঙ্গীয় অজ্ঞাতানামা নির্মাণ শ্রমিক লোকজন নিয়া নোমান আহমদের পিতার মৌরসী স্বত্ব দখলীয় ভূমিতে দেওয়াল নির্মাণ করিতেছে। নোমান আহমদের ভাই কামাল আহমদ ও আত্মীয় স্বজনকে নিয়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত হইয়া উক্ত ভূমি তাহাদের দাবী করিয়া আসামীদের এহেন কার্যকলাপে নিষেধ দিলে আসামী মোঃ ইব্রাহিম আলী উত্তেজিত হইয়া বলে যে, “তকে জিজ্ঞেস করিয়া কি নির্মাণ করিতে হইবে, আমার জায়গায় আমরা কাজ করাইতেছি” বলিয়া কাজ করিতে থাকিলে নোমান আহমদসহ বাদীর আত্মীয় স্বজন বাঁধা দিলে ইব্রাহিম আলী হুকুম দিয়া বলে যে, “শালার বেটাদের নির্মাণ কাজে বাঁধা দেওয়ার মজা দেখাইয়া দে” বলার সাথে সাথে আসামীগন পূর্ব পরিকল্পিতভাবে রাখা পাইপগান, দেশীয় দা, রামদা, সুলফি, লোহার রড, জি, আই, পাইপ ও লাটি সোটা ইত্যাদি দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়া নোমান আহমদকে ও ভিকটিম কামাল আহমদকে হত্যা উদ্দেশ্যে তাহার মাথা লক্ষ করিয়া গুলি করিলে কামাল আহমদের মাথার ডান দিকে গুলি লাগিলে সে মাটিতে লুটিয়া পরে। আসামী ইব্রাহিম আলী ভিকটিম কামাল আহমদকে মাথায় গুলি করে হত্যা করে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই নোমান আহমদ জালালাবাদ থানায় ১৪ জনকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ ২০২৩ সালের ১৪ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
মামলার বিচারকালে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এ.পি.পি. নাজিম উদ্দিন অ্যাডভোকেট। আসামীপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট আব্দুছ ছাত্তার, অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন ও অ্যাডভোকেট ইকবাল আহমদ। আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় উক্ত রায় প্রদান করেন।