বালাগঞ্জের চাঁন মিয়া হত্যাকান্ডের ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা :  ৩ আসামীকে ফাঁসির আদেশ

ডেইলি সিলেট নিউজ
প্রকাশিত June 23, 2025
বালাগঞ্জের চাঁন মিয়া হত্যাকান্ডের ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা :  ৩ আসামীকে ফাঁসির আদেশ

মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামীরা হচ্ছে (বাঁ থেকে) অপূর্ব চন্দ (পলাতক), মনোরঞ্জন নাথ ও রিন্টু পাল  (জেল হাজতে)


কোর্ট রিপোর্টার : বালাগঞ্জের বনগাঁও-এর মোঃ চাঁন মিয়া হত্যাকান্ডের মামলার ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করা হয়েছে। তিন সংখ্যালঘু যুবককে আদালতে প্রদত্ত স্বাক্ষ্য-প্রমাণের উপর ভিত্তি করে মৃত্যুদন্ডের আদেশ প্রদান করা হয়েছে। গতকাল সিলেটের জেলা ও দায়রা জজ এবং স্পেশাল ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক মোঃ আশফাকুর রহমান এক জনাকীর্ণ আদালতে ঐতিহাসিক এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণাকালে এজাহার বর্ণিত দু’জন আসামী আদালতে হাজির থাকায় তাদেরকে কারাগারে প্রেরণের মাধ্যমে রায় কার্যকরের আদেশ প্রদান করা হয়েছে। এই মামলার আসামী অপূর্ব চন্দ ঘটনার পর থেকে পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজাসহ গ্রেফতারী পরোয়ানা করতঃ উক্ত আসামীকে দ্রæত গ্রেফতারপূর্বক শাস্তি কার্যকরের পদক্ষেপ নিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে প্রকাশ, ২০২২ সনের ৫ জুলাই বালাগঞ্জ থানাধীন বনগাঁও গ্রামের বাসিন্দা ও মামলার বাদী মোঃ জাহির উদ্দিনের ভাতিজা মোঃ চাঁন মিয়াকে পূর্ব শত্রæতার জের ধরে স্থানীয় আজিজপুর বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে আসামীগণ মধ্যরাতে অপহরণ করে ঐ গ্রামের পার্শ্ববর্তী বড়ভাগা নদীর কাছে নিয়ে গলায় গামছা পেছিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে। এই পৈশাচিক ঘটনায় বনগাঁও গ্রামের মনির উদ্দিনের পুত্র মোঃ জাহির উদ্দিন বাদী হয়ে একই গ্রামের বাসিন্দা অপূর্ব চন্দসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫জনের বিরুদ্ধে বালাগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি প্রথমে বালাগঞ্জ থানার এস.আই. ফরিদ উদ্দিন তদন্ত সম্পন্ন করে একমাত্র আসামী অপূর্ব চন্দকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশীট (অভিযোগপত্র) দাখিল করলেও ঘটনাটির মোড় নেয় ভিন্নভাবে। বিভিন্ন স্যোসাল মিডিয়ায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে এই পৈশাচিক ঘটনায় আরও ২জনের নাম পাওয়া যায় এবং মামলাটি পিবিআই, সিলেটকে অধিকতর তদন্তের জন্য প্রদান করা হলে অপরাধের সঙ্গে জড়িত আরও দু’জনের নাম পাওয়া গেলে তাদেরকেও অভিযুক্ত করে আদালতে সম্পূরক চার্জশীট (অভিযোগপত্র) প্রদান করা হয়। ফলে মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হলে সিলেটের জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং স্পেশাল ট্রাইব্যুনালে প্রেরণ করা হলে আদালতে প্রদত্ত স্বাক্ষ্য-প্রমাণাদি এবং প্রত্যক্ষদর্শী ২জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ এবং তদন্তকারী কর্মকর্তার প্রদত্ত তদন্ত প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে আদালত এই ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে আদালতে মামলা পরিচালনা করেন এডভোকেট মোঃ আশিক উদ্দিন, পি.পি. এবং আসামীপক্ষে আদালতে মামলা পরিচালনা করেন এডভোকেট মোঃ আমান উদ্দিন, এডভোকেট মোহাম্মদ লালা এবং পলাতক আসামীপক্ষে ছিলেন এডভোকেট মোঃ সেলিম উদ্দিন। বাদীপক্ষ রায়ে সন্তুষ্টি প্রদান করেন।
আসামীপক্ষে বিজ্ঞ কৌশলী জানান, এই রায়ে তারা সন্তুষ্ট নন। তাদের মক্কেলদের সাথে কথা বলে উচ্চাদালতে আপীল করবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন