নিজস্ব প্রতিবেদক :
স্বৈরাচার আওয়ামী সরকার আমলের একটি রাজনৈতিক মামলা। এই মামলায় পালিয়ে বেড়াচ্ছেন জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ও ছাত্রদল সিলট-এর ২৭
নেতাকর্মী। তাদের বিরুদ্ধে ইস্যু করা হয়েছে সাজা ওয়ারেন্ট। বিগত ২০২১ সালের ৩০ ডিসেম্বর পুলিশ সিলেট কোতোয়ালী মডেল থানায় এ মামলা দায়ের করে।
আওয়ামী লীগ সরকারকে উৎখাতের লক্ষ্যে অন্তর্ঘাত মূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে এ মামলা করা হয়। যা বিশেষ ক্ষমতা ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে থানার মামলা নং-৮৮/২০২১। পরবর্তীতে মামলাটি বিশেষ ক্ষমতা ৪২৩/২০২২ নং মামলা হয়ে বিচারে যায়।
এই মামলায় ৮ জুলাই ২০২৫ তারিখে রায় ঘোষনা হলে
আদালত আসামীদের প্রত্যেকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে অতিরিক্ত আরও ১ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন।
সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আহবাবুর রহমান এ রায় প্রদান করেন। রায়ে সময় আসামীগণ পলাতক থাকায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে সাজা ওয়ারেন্ট ইস্যু করেন।
মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি-ছাত্রদলের ২৭ নেতাকর্মী হচ্ছেন- এসএমপি সিলেট এর মোগলাবাজার থানার রস্তুমপুরের ছাত্রদল কর্মী শাহার আহমদ, জালালাবাদ হাউসার ছাত্রদল নেত আমিনুর রহমান, গোলাপগন্জ দৌলতপুরের তানভীর আহমদ, সিলেট সিটির নয়াসড়ক আল-হেলাল ২৪ এর কনক কান্তি দাস, নয়াসড়ক আল হেলাল ০৩/বি-এর খালেদ আহমদ, আলহেলাল ৩৬ -এর মোঃ মুমিন, সিলেট সিটির নয়াসড়ক আল-হেলাল ১৬ নং বাসার মিনহাজুর রহমান রাহি, আলহেলাল ০৭ নং বাসার মির্জা মিলন, আলহেলাল ৩৮ নং বাসার মোঃ শাহজাহান, এসএমপির জালাবাদ থানার খিত্তারগাঁও-এর সাজিদ হেসেন, মেগলাবাজার থানার কামাল বাজারের সাকিবুর রহমান, মোগলাবাজার দাউদপুরের আব্দুল হাসিম, জালালাবাদ থানার শিবের বাজারের পাবেল চৌধুরী, ফেঞ্চুগঞ্জ ঘিলাছড়ার ফখরুল ও জাহাঙ্গীর হেসেন, মোগলাবাজার দাউদপুরের ফতেহ মোঃ জাকির, জালালবাদ থানা এলাকার বাবর ইবনে তাহের, একই এলাকার আফসার উদ্দিন, সিলট সদরের মোঃ রেদয়ানুর রহমান, শাহপরাণ থানা এলাকার নাজমুস সাকিব, জালালাবাদ থানা এলাকার মাফিউর রহমান রাফি, একই থানা এলাকার আহসানুর রহমান আদনান, সিলেটের বিয়ানীবাজার থানার আভঙ্গীর এলাকার ফরিদ আহমদ ওরফে ফরদ আল মামুন, বিয়ানীবাজার থানার পাড়িয়া বহরের দেলোয়ার হেসেন, গোলাপগঞ্জ থানার ঢাকাদক্ষিণ নগরের এসএম আব্দুর রহিম ও গোলাপগঞ্জ থানার বাগলার মোঃ জাহিদ হোসেন।
এ ঘটনায় এসএমপির কোতোয়ালি মডেল থানার শাহজালাল মাজার পুলিশ কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই (নি:) মোঃ আবু সাঈদ বাদী হয়ে বিএনপি-ছাত্রদলের ২৭ নেতাকর্মীকে এজাহারভুক্ত করে সিলেট কেতোয়ালী মডেল থানায় উপরোক্ত মামলা করেন। তদন্ত শেষে থানার ইন্সপেক্টর (নি:) মোঃ ইয়াসীন মামলার এজাহারভুক্ত সকল আাসামীকে অভিযুক্ত করে ২৪ আগস্ট ২০২২ তারিখে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। গ্রেফতারকৃত ৩ নেতাকর্মীও জামিনে গিয়ে পলাতক হয়ে যান
মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২১ সালের ২৯ ডিসেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সিলেট সরকারী আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে এ ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বেআইনী জনতাবদ্ধে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারকে উৎখাতের উদ্দেশ্যে অন্তর্ঘাতমূলক হামলা করতে সেখানে জমায়েত হন। এসময় তারা পুলিশের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ককটেল চার্জ করে। পুলিশ পাল্টা ধাওয়া করে ৩ জনকে আটক করলেও অন্যরা পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে মামলাটি বিচারের জন্য সিলেট মহানগর দায়েরা জজ আদালতে প্রেরিত হয়। বিচারে ও সাক্ষ্য-প্রমানে মামলায় বর্ণিত আসামীগনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় আদালত সকল আসামীর প্রত্যেককে ১০ বছর করে সশ্রম কারদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের রায় প্রদান করেন।
সিলেট জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট পৃথিশ দত্ত (পিংকু) আসামীদের বিরুদ্ধে সাজার রায় এবং দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপির ২৭ নেতাকর্মী পলাতক থাকার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।