স্টাফ রিপোর্ট:
বালু-পাথর ব্যবসায়ী, চা বাগান সম্প্রদায়ের লোক জৈন্তাপুর উপজেলা যুবলীগ নেতা এবং চিকনাগুলের বাসিন্দা আব্দুল কাদিরের ছেলে আব্দুল খালিক-কে খুঁজছে পুলিশ। তাকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের হয়রানির অভিযোগ করেছেন তার স্ত্রী হাজিরা বেগম ও পরিবারের লোকজন। এছাড়াও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র অঙ্গসংগঠন যুবদল, ছাত্রদল ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অঙ্গসংগঠন শিবিরের পরিচয়ে ১৫/২০ টি মোটর সাইকেলে করে আব্দুল খালিকের বসত বাড়িতে গিয়ে তাদেরকে খুজে না পেয়ে বসত বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করে আগুন লাগানোর খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আব্দুল খালিক ছিলেন একজন বালু-পাথর ব্যবসায়ী। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ জৈন্তাপুর উপজেলার সহ-সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তার ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য দীর্ঘদিন থেকে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করে আসছেন বিএনপি নেতা এবিএম জাকারিয়া এবং জামায়াত নেতা মো. রফিক আহমদ। যার ফলে আব্দুল খালিকের উপর ২০২১ সালে হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় আব্দুল খালিক বাদী হয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানার মামলা নং ১১ তাং ১১/১১/২১ ইং দাখিল করেন। ওই মামলাটি গত ২৮/০১/২৫ ইং তারিখে আদালত নিষ্পত্তি করেছেন। যার ফলে ব্যবসায়ীক ও রাজনৈতিক কারণে এবং পূর্বের বিরোধের জেরে গতকাল সন্ধ্যায় জাকারিয়া এবং রফিকের নেতৃত্বে জিয়ার সৈনিক এক হও, লড়াই করো, “ধর ধর লীগ ধর, ধরিয়া ধরিয়া জবাই কর”, “নারে তাকবীর আল্লাহু আকবার” শ্লোগান দিয়ে ১৫/২০ টি মোটরসাইকেল যোগে ৪০/৫০ লোক গিয়ে আব্দুল খালিকের বাড়িতে প্রবেশ করে ঘর-দোয়ার ভাংচুর করে ঘরে প্রবেশ করে মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে। এ সময় ঘরে কেউ ছিলেন না। আর এলাকার কোন লোকজন ভয়ে সামনে যাননি। সন্ত্রাসীরা যাওয়ার সময় ঘরে আগুন লাগিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণ করেন।
এদিকে, জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশ সূত্র জানায়, আব্দুল খালিকের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা, নাশকতা, মারপিট, রাজনৈতিক সহিংসতা, হামলা ও ভাংচুরের অভিযোগে একাধিক মামলা আছে। তাই পুলিশের তালিকায় সে আত্মগোপনে রয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, খালিকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ঘটনায় জৈন্তাপুর থানার মামলা নং- ২৩, তাংঃ ২৩/০৯/২০২৪ ইং, জি আর ২০২/২০২৪ ইং, ধারা: ১৪৩/৪৪৮/৩২৩/৩২৪/৩০৭/৩২৬/৩০২/৩৪ দঃ বিঃ, জৈন্তাপুর থানার মামলা নং- ২১, তাং: ২০/০৯/২০২৪ ইং, জিআর ১৯৮/২৪ইং, ধারা: বিস্ফোরক দ্রব্যাদি আইনের ৩/৪ ধারা তৎসহ পেনাল কোড ১৪৩/৪৪৭/৪৪৮/৩৩২/৩৩৩/৩৩৫/৩২৩/৩২৪/৩০৭/৩২৬/৩৪ দঃ বিঃ, জৈন্তাপুর থানার মামলা নং-২৫, তাং: ২৫/০৯/২০২৪ ইং, জিআর ২০৩/২৪ ইং, ধারা: ১৪৩/৪৪৮/৩২৩/৩২৪/৩০৭/৩২৬/৩০২/৩৪ দঃবিঃ এবং কোতোয়ালী মডেল থানার মামলা নং ৩০ তারিখ: ২৪/১০/২০২৪ ইং, জিআর-৪৬৯/২৪ ইং, ধারা: ১৪৩/১৪৯/৩২৩/৩২৫/৩২৬/৩০৭/১০৯/১১৪ দঃবিঃ উক্ত মামলাগুলো ছাত্রজনতার আন্দোলনের হওয়ায় আদালত সূত্র খালিকসহ এজাহার নামীয় অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা ইস্যু করেন।
এদিকে, বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠন এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো নতুন করে নীল নক্সা তৈরি করে গোপন তৎপরতা শুরু করেছে। যাতে বর্তমান সরকারকে উৎখাত করে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করাই হচ্ছে তাদের মুখ্য উদ্দেশ্য। এমনই তথ্য জানিয়ে সিলেট জেলা পুলিশ সুপার জানান, আওয়ামী লীগ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়ে জননিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করা, ব্যক্তিসত্তা বা প্রজাতন্ত্রের সম্পত্তির ক্ষতিসাধনসহ সরকারকে অবৈধভাবে উৎখাত করার উদ্দেশ্যে গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তাই ওয়ারেন্টভুক্ত সকল পলাতক আসামীদের খোঁজা হচ্ছে। জৈন্তাপুর থানার ওসি আবুল হোসেন জানান, আদালতের ওয়ারেন্টভুক্ত আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশী অভিযান চালানো হচ্ছে। খালিকের বিরুদ্ধে আদালতের একাধিক গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। তাই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে তার বাড়ি ও সন্দেহজনক সকল এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে।
আত্মগোপনে থাকা আসামী খালিকের স্ত্রী হাজিরা বেগম জানান, তিনি ও তার পরিবারের লোকজন আতঙ্কে-ভয়ে বাড়ি ছাড়া। তার স্বামী দীর্ঘদিন থেকে বাড়িতে নেই, তবুও পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা তাদের বাড়িতে এসে তল্লাশির নামে হয়রাণি করে এবং খালিককে এনে না দিলে তাদেরকেসহ বাড়িতে যারা থাকেন সবাইকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে গ্রেফতারের হুমকী প্রদান করে।
তিনি আরো জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ পূর্বে খালিককে না পেয়ে ঘরের লোকদের ধরে নিয়ে যেতে চেয়েছিল পুলিশ, তারা বাধা প্রদান করলে পুলিশ তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং ঘরের মালামাল তছনছ করে বলে, খুজে পেলে ধরে এনে ক্রসফায়ার করবে। আর না পেলে পরিবারের সবার খবর আছে বলে হুমকি প্রদান করে। ফলে পরিবারের সবাই ভীত সন্তস্থ্য। তবে পরিবারের লোকদেরকে হুমকী দেয়ার বিষয়টি সত্য নয় জানিয়ে জৈন্তাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল হোসেন বলেন, যুবলীগ নেতার বাড়ি লুটপাট ও অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি তার জানা নেই। অথচ খালিকের স্ত্রী হাজিরা বেগম জানান, তিনি লুটপাট ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি।