বিশ্বনাথ প্রতিনিধিঃ
সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলার ৩নং অলংকারি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক প্রবাসী ছাত্রলীগ নেতা মোঃ হাবিবুর রহমানের বাড়িতে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনায় মামলা নেয়নি বিশ্বনাথ থানা পুলিশ। এমন অভিযোগ করেছেন হাবিবুরের পিতা আব্দুল কাদির। তিনি জানান, গতকাল (১৩ই ফেব্রুয়ারি) বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপি, ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা তার বাড়িতে অতর্কিত হামলা, ভাংচুর, লুটপাট করে এবং ওই সময় তারা তাকে মারধর করে আহত করে। অদ্য তিনি এই হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করে বিশ্বনাথ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু বিশ্বনাথ থানা পুলিশ তা গ্রহণ না করে তাকে ফিরিয়ে দেয়। আব্দুল কাদির অভিযোগ করেন, এই সময় কর্তব্যরত পুলিশ অফিসার তাকে বলে আওয়ামী লীগ একটি ফ্যাসিস্ট রাজনৈতিক দল। আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের আটক করে আইনের আওতায় আনার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশনা রয়েছে। মোঃ হাবিবুর রহমান ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল এবং তার বিরুদ্ধে বিশ্বনাথ থানায় মামলা আছে। সুতরাং তার বাড়িতে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটতেই পারে এবং এই বিষয়ে থানা পুলিশ কোন আইনী পদক্ষেপ নিবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল (১৩ই ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৪টার দিকে বিশ্বনাথ উপজেলার রহিমপুর গ্রামে প্রবাসী ছাত্রলীগ নেতা মোঃ হাবিবুর রহমানের বাড়িতে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের দাবি, বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপি, ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা দেশী-বিদেশী অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হাবিবুরের বাড়িতে এই হামলা চালায়। হামলাকারীরা জোরপূর্বক বাড়িতে প্রবেশ করে হাবিবুরকে খোঁজাখুঁজি করে। তাকে না পেয়ে তারা বসতঘরের দরজা-জানালা ভাংচুর করে এবং ঘর থেকে মূল্যবান জিনিসপত্র লুটপাট করে। হাবিবুরের পরিবারের দাবি, হাবিবুর দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। তা সত্ত্বেও শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলকভাবে পরিকল্পিতভাবে তার বাড়িতে এই হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়েছে এবং হাবিবুর ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকার কারণে এই বিষয়ে বিশ্বনাথ থানায় লিখত অভিযোগ দায়ের করার পরও পুলিশ মামলা নেয়নি। এই ঘটনার পর থেকে বর্তমানে পরিবারটি চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তারা। হাবিবুরের বাড়িতে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনায় মামলা না নেওয়ার কারণ জানতে বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইনচার্জ গাজী মোঃ মাহবুবুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি এই বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।