স্টাফ রিপোর্ট::
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক ও জালালাবাদ থানার বলাউরা কসকালিকা গ্রামের আব্দুল মালিকের ছেলে মো. জয়নুদ্দিন-কে খুঁজছে পুলিশ। তাকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের হয়রানির অভিযোগ করেছেন পরিবারের লোকজন । এছাড়াও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র অঙ্গসংগঠন যুবদল, ছাত্রদল ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অঙ্গসংগঠন শিবিরের পরিচয়ে ইসমাঈল ও জাকিরের নেতৃত্বে ১৫/২০ টি মোটর সাইকেলে করে জয়নুদ্দিনের বসত বাড়িতে গিয়ে তাকে খুজে না পেয়ে বসত বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করে আগুন লাগানোর খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, জয়নুদ্দিন ছাত্রলীগের রাজনীতিতে ছিলেন। গতকাল সন্ধ্যায় জিয়ার সৈনিক এক হও, লড়াই করো, “ধর ধর লীগ ধর, ধরিয়া ধরিয়া জবাই কর” , “নারে তাকবীর আল্লাহু আকবার” স্লোগান দিয়ে ১৫/২০ টি মোটরসাইকেল যোগে ৪০/৫০ লোক বাড়িতে প্রবেশ করে ঘর-দোয়ার ভাংচুর করে ঘরে প্রবেশ করে মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে। এ সময় জয়নুদ্দিনের ঘরে কেউ ছিলেন না। আর এলাকার কোন লোকজন ভয়ে সামনে যাননি। সন্ত্রাসীরা যাওয়ার সময় ঘরে আগুন লাগিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণ করেন।
সিলেট মহানগরীর জালালাবাদ থানা পুলিশ জানিয়েছে, ছাত্রলীগ নেতা জয়নুদ্দিনের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা, নাশকতা, মারপিট, রাজনৈতিক সহিংসতা, হামলা ও ভাংচুরের অভিযোগে একাধিক মামলা আছে। পুলিশের তালিকায় সে আত্মগোপনে রয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, জয়নুদ্দিনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে।
এরমধ্যে কোতোয়ালী থানার মামলা নং-১৯, তারিখ: ১১/০৯/২০২৪ইং। জিআর ৪১৮/২০২৪ইং, ধারা- ১৪৩/ ১৪৭/ ১৪৮/ ১৪৯/ ৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩২৬/৩০৭/১১৪/৩৪ পেনাল কোড তৎসহ ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক উপাদানাবলী, কোতোয়ালী থানার মামলা নং-৩১, তারিখ: ১৬/১১/২০২৪ ইং, জিআর ৫১২/২০২৪ইং, ধারা: ১৪৩/১৪৭/১৪৮/৩০২/১৪৯/৩৪ পেনাল কোড-১৮৬০ মামলাগুলো তদন্তাধীন। উক্ত মামলা গুলো ছাত্রজনতার আন্দোলনের হওয়ায় আদালত জয়নুদ্দিনসহ এজাহার নামীয় অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা ইস্যু করেন।
এদিকে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠন এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো নতুন করে নীল নক্সা তৈরি করে গোপন তৎপরতা শুরু করেছে । যাতে বর্তমান সরকারকে উৎখাত করে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করাই হচ্ছে তাদের মুখ্য উদ্দেশ্য। এমনই তথ্য জানিয়ে সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার মোঃ রেজাউল হক বিপিএম (বার), পিপিএম জানান, আওয়ামী লীগ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়ে জননিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করা, ব্যক্তিসত্তা বা প্রজাতন্ত্রের সম্পত্তির ক্ষতিসাধনসহ ড. ইউনূস সরকারকে অবৈধভাবে উৎখাত করার উদ্দেশ্যে গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তাই ওয়ারেন্টভুক্ত সকল পলাতক আসামীদের খোঁজা হচ্ছে।
এসএমপি কোতোয়ালী থানার ওসি আবুল হোসেন জানান, আদালতের ওয়ারেন্টভুক্ত আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশী অভিযান চালানো হচ্ছে। জয়নুদ্দিনের বিরুদ্ধে আদালতের একাধিক গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। তাই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে তার বাড়ি ও সন্দেহজনক সকল এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে।
আত্মগোপনে থাকা আসামী জয়নুদ্দিনের পরিবার সূত্র জানান, তিনি ও তার পরিবারের লোকজন আতঙ্কে-ভয়ে বাড়ি ছাড়া। তারা জানান জয়নুদ্দিন দীর্ঘদিন থেকে বাড়িতে নেই, তবুও পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা তাদের বাড়িতে এসে তল্লাশির নামে হয়রাণি করে এবং জয়নুদ্দিনকে এনে না দিলে তাদেরকেসহ বাড়িতে যারা থাকেন সবাইকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে গ্রেফতারের হুমকী প্রদান করে।
তারা আরো জানান, জয়নুদ্দিনকে না পেয়ে ঘরের লোকদের ধরে নিয়ে যেতে চেয়েছিল পুলিশ, তারা বাধা প্রদান করলে পুলিশ তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং ঘরের মালামাল তছনছ করে বলে, জয়নুদ্দিনকে খুজে পেলে ধরে এনে ক্রসফায়ার করবে। আর না পেলে পরিবারের সবার খবর আছে বলে হুমকি প্রদান করে। ফলে পরিবারের সবাই ভীত সন্তস্থ্য। তবে পরিবারের লোকদেরকে হুমকী দেয়ার বিষয়টি সত্য নয় বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল হোসেন বলেন, ছাত্রলীগ নেতার বাড়ি লুটপাট ও অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি তার জানা নেই।