আজ রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২০

মাশরাফির বল বিসিবি’র উইকেটে

 প্রকাশিত: ২০২০-০৩-০১ ১১:৫৪:০৯

কিছুদিন আগে সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেন, আগামী মাসে ঘোষণা করা হবে ওয়ানডের নতুন অধিনায়কের নাম। তাতে জিম্বাবুয়ে সিরিজেই মাশরাফি বিন মুর্তজার নেতৃত্বের অধ্যায় শেষ হচ্ছে- এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে মিডিয়ায়। যে কারণে গতকাল ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফির নেতৃত্ব ও অবসর নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে থাকে সিলেট স্টেডিয়ামের প্রেসবক্সে। তবে টাইগার অধিনায়ক তার বল ঠেলে দেন বিসিবি’র উইকেটে। তিনি স্পষ্ট করেই জানান তার অবসর ও নেতৃত্বের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বিসিবি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে সামনে রেখে সাংবাদমাধ্যমের সঙ্গে মাশরাফির কথোপকথনের মূল অংশ তুলে ধরা হলো।

প্রশ্ন: বিসিবি সভাপতি বলেছেন নতুন অধিনায়ক ঘোষণা করা হবে। এ বিষয়ে আপনার অবস্থান যদি পরিষ্কার করতেন?
মাশরাফি: পরিষ্কারের কী আছে? আমার তো মনে হয় বোর্ড প্রেসিডেন্ট সব বলেছেন। আর আমার সঙ্গে যে কথা হয়েছে মনে হয় না আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করার প্রয়োজন।ক্রিকেট বোর্ড কী বলেছে আপনারা জানেনই। আমার মুখ থেকে আবার শুনতে হবে কেন? আমি বলছি এখনই বলার কিছু নেই। যদি থাকতো তাহলে আমি বলতাম।

প্রশ্ন: আপনার পারফরম্যান্স ভালো যাচ্ছে না, তা ফিরে পেতে কতটা আত্মবিশ্বাসী?
মাশরাফি: অবশ্যই পারফরম্যান্স একজন খেলোয়াড়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শেষ কয়েক ওয়াডেতে জয় পাইনি। জেতাটা ও রাইট ট্র্যাকে আসাটা গুরুত্বপূর্ণ। সবাই চায় পারফরম্যান্স ভালো করতে। আমার ক্ষেত্রেও এর বাইরে নয়।

প্রশ্ন: অধিনায়ক হিসেবে দীর্ঘদিন পর ফিরেছেন। মাঝে একটা দূরত্ব ছিল, সব আগের মতোই আছে?
মাশরাফি: আমার কাছে মনে হয়, সবাই খেলার মধ্যেই ছিল। কোনো পরিবর্তন হয়নি। সবাই পেশাদার, যার যার দায়িত্ব জানে। আমার সমস্যা হওয়ার কোনো কারণ দেখছি না। বেশিরভাগ খেলোয়াড়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন খেলেছি। মনে হয় না সমস্যা হবে।

প্রশ্ন: ২০১৪তে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অধিনায়ক হিসেবে ফিরে দলকে বদলে দিয়েছিলেন। এবারও সেটি হবে বলে মনে করেন?
মাশরাফি: পাঁচ বছর আগে-পরের কথা নিশ্চয়ই এক নয়। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয় এলে পজেটিভ বিষয়গুলো হয়তো কম আলোচনা হবে। তবে হেরে গেলে আলোচনা বেশি হবে। এমন না যে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই শুরু করতে হবে। কয়েকদিন পর দল পাকিস্তানে যাবে। এ বছর আরো খেলা রয়েছে। প্রতিটি শুরুরই একটা প্রক্রিয়া আছে।

প্রশ্ন: খেলায় হারলে আলোচনা হয়, এটা খেলোয়াড়দের মাথায় থাকে?
মাশরাফি: আমরা যখন র?্যাঙ্কিংয়ে এক দুই নম্বর দলের সঙ্গে খেলি তখন তারাও চাপ বোধ করে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আপনি যার বিপক্ষেই খেলেন, গণমাধ্যম, সমর্থকের প্রত্যাশা থাকে। ক্যামেরা থাকে। যখন আপনি লাল-সবুজের জার্সিটা গায়ে জড়াবেন তখন অটোমেটিক একটা চাপ থাকবেই। এই চাপ সামলানোর মত ক্ষমতা দলের সবার আছে। খারাপ সময় আসে, জাতীয় দলে খেললে এ চাপটা আসবেই, মানসিক ব্যাপার।

প্রশ্ন: নতুন করে প্রমাণ করবেন নিজেকে?
মাশরাফি: আমি গ্যারান্টি দিতে পারবো না যে পারফরম্যান্স করবোই। তবে গ্যারান্টি দিতে পারি, আমি আমার শতভাগ দেয়ার চেষ্টা করবো। টিম ম্যানেজমেন্ট থেকে প্রশ্ন থাকতে পারে যে, সে নিজের সেরাটা দিচ্ছে কি না। সেখানে প্রশ্ন থাকলে আমার মনে হয় ভালো করার প্রয়োজন আছে। আর আগেও বলেছি এতদিন কাউকে প্রমাণ দিতে ক্রিকেট খেলিনি। নিজের চেষ্টায় খেলেছি।

প্রশ্ন; পাকিস্তানে যাবেন কিনা যদি বিবেচনায় থাকেন?
মাশরাফি: জানি না এই সিরিজের পর আসলে কি হবে। বাংলাদেশ দলের প্রয়োজনে আমাকে যেখানেই ডাকা হবে আমি থাকবো। আমি সবসময় ফিল করি ক্রিকেট বোর্ড আমাদের অভিভাবক। কাজেই ক্রিকেট বোর্ড আমাদের কথা একবার, দুইবার, তিনবার নয় ১০ বার চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নেবে। মুশফিক যায়নি আমি তার সিদ্ধান্তকে পূর্ণ সম্মান দেখাচ্ছি। আমাকে যদি সিলেক্ট করে, আমাকে যদি প্রশ্ন করে তখন আমি উনাদের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা করবো।

আপনার মন্তব্য