আজ মঙ্গলবার, ০৯ মার্চ, ২০২১

সিলেটে পৌঁছেছে করোনাভাইরাসের ২ লাখ ২৮ হাজার ডোজ টিকা

 প্রকাশিত: ২০২১-০২-০১ ১২:৩৫:১৩

 আপডেট: ২০২১-০২-০১ ১২:৩৮:১২

ডেইলিসিলেটনিউজ.কম:

সিলেটে করোনাভাইরাসের ২ লাখ ২৮ হাজার ডোজ টিকা এসেছে। গতকাল রোববার বেলা পৌনে ১টার দিকে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ভ্যানে টিকাগুলো সিলেট সিভিল সার্জন কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। পরে সিলেটের সিভিল সার্জন প্রেমানন্দ মণ্ডল আনুষ্ঠানিকভাবে টিকা বুঝে নেন। এ সময় সিলেট বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সুলতানা রাজিয়াসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম চালানে সিলেটে আনা ১৯ কার্টন টিকার মধ্যে প্রতিটি কার্টনে ১ হাজার ২০০টি ভায়াল রয়েছে। প্রতি ভায়ালে ১০ ডোজ করে টিকা রয়েছে। সে হিসাবে ২ লাখ ২৮ হাজার ডোজ টিকা এসেছে সিলেটে। কোল্ড চেইন বজায় রেখে এসব টিকা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ইপিআই স্টোরে রাখা হয়েছে।
সিভিল সার্জন প্রেমানন্দ মণ্ডল জানান, সিলেটে প্রথম দফায় আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি করোনার টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এর জন্য সিলেট জেলায় টিকাদানের জন্য ১৫৩টি সেন্টার নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫টি সেন্টার সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) এলাকায় এবং ১২৮টি সেন্টার সিভিল সার্জনের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন উপজেলায়। সিলেটে করোনা চিকিৎসার জন্য বরাদ্দকৃত শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রথমে টিকা পাবেন বলে জানা গেছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সিলেট মহানগর এলাকায় সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে টিকা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। টিকা গ্রহণকারীদের রেজিস্ট্রেশনের ওপর ভিত্তি করে ইপিআই স্টোর থেকে মহানগর ও উপজেলা পর্যায়ে টিকা সরবরাহ করা হবে।
ইতোমধ্যে টিকা প্রদান কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে আহ্বায়ক এবং সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলামকে সদস্য সচিব করে ২২ সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। একইভাবে জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলামকে আহ্বায়ক এবং সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মন্ডলকে সদস্য সচিব করে জেলা পর্যায়ের ৮ সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, টিকাদানের জন্য ৭২ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এসব প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা প্রতিটি টিকাদান কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবেন। সিলেট মহানগর এলাকার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের নির্ধারিত কেন্দ্রের মাধ্যমে টিকা দেওয়া হবে। প্রত্যেক টিকাদান কেন্দ্রে ২ জন স্বাস্থ্যকর্মী ও ৪ জন স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করবেন। টিকাদান পরবর্তী শারীরিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য ৭ সদস্যের একটি মেডিকেল টিম থাকবে।
সিভিল সার্জন প্রেমানন্দ মণ্ডল আরও বলেন, আগামী মাসে টিকার দ্বিতীয় চালান আসার কথা রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট করে কত তারিখে টিকা আসবে, সেটি বলা যাচ্ছে না। টিকা দেওয়ার জন্য তালিকা করা হয়েছে। তবে তালিকায় কতজন আছেন, সেটি বলা যাচ্ছে না। টিকায় স্বাস্থ্যকর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
সিলেটে আসা করোনার টিকা যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাস্ট্রাজেনেকার। যা বাজারজাত করছে সেরাম ইনস্টিটিউট। সেরামের অংশীদার বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস। ভারত থেকে বাংলাদেশকে দেওয়া হেেয়ছে এসব টিকা। এর আগে গত শনিবার সিলেটে টিকা পৌঁছানোর কথা ছিলো। তবে শনিবার দিনভর সিলেটে বিদ্যুৎ না থাকার খবরে টিকা আসা একদিন পিছিয়ে যায়।
সুনামগঞ্জে পৌঁছেছে করোনার ভ্যাকসিন
৮৪ হাজার ডোজ করোনার ভ্যাকসিন সুনামগঞ্জে পৌঁছেছে। গতকাল রোববার সকালে বেক্সিমকো ফার্মার একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কাভার্ডভ্যানে ভ্যাকসিন সিভিল সার্জন কার্যালয়ে এসে পৌঁছায়। ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. শামস উদ্দিন। এসময় সুনামগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীনসহ জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ভ্যাকসিন গ্রহণ করার আগে ভ্যকসিনের কার্টনের তাপমাত্রা পরীক্ষা করেন জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন। পরে এগুলো জেলা ইপিআই ভবনের শীতলীকরণ কক্ষে সংরক্ষণ করা হয়। সিভিল সার্জন ডা. শামস উদ্দিন জানান. শনিবার রাতে ঢাকা থেকে বেক্সিমকো ফার্মার একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কাভার্ডভ্যানে করে ভ্যাকসিনগুলো নিয়ে আসা হয়েছে। প্রথম ধাপে ৮৪ হাজার ডোজ পেয়েছি। তিনি জানান, প্রতিটি কার্টনে এক হাজার দুইশত ভায়েল রয়েছে। আর প্রতিটি ভায়েলে ১০টি ডোজ আছে।
সিভিল সার্জন আরও জানান, সরকারের নির্দেশনা রয়েছে ফ্রন্ট লাইনাররা যেন আগে পান তবুও স্বাস্থ্য বিভাগের পরবর্তী নির্দেশনার মাধ্যমে টিকা দেওয়া শুরু করা হবে। তিনি জানান, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা ছাড়াও অন্য ১০ উপজেলায় সতর্কতার সাথে করোনার ভ্যাকসিন পাঠানো হবে। সুনামগঞ্জ জেলা সদরে ৮টি টিকাদান কেন্দ্র প্রস্তত করা হয়েছে ও রিজার্ভ রাখা হয়েছে দুইটি। প্রতি উপজেলায় দুটি করে এবং একটি করে রিজার্ভ টিকাদান কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান তিনি।

আপনার মন্তব্য