আজ শনিবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০২১

সুনামগঞ্জে সংবাদ প্রকাশের জের বিজিবির মামলায় সাংবাদিক মোজাম্মেল আটক

 প্রকাশিত: ২০২০-১১-২৯ ১০:১৮:০৮

 
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সংবাদ প্রকাশের জের ধরে দেশে আবারও আইসিটি আইনের অপপ্রয়োগ করা হয়েছে একজন সংস্কৃতিসেবী সাংবাদিকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী তাহিরপুর উপজেলায়। সরকারকে রাজস্ব বঞ্চিত করে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা সীমান্তের বিভিন্ন চোরাই পথে আসে কয়লা ও চুনাপাথর। এছাড়াও যুবসমাজ ধংসকারী বিভিন্ন মাদকসহ চুরাই পথে অবৈধভাবে ভারতীয় মালামালের সংবাদ প্রকাশের কারনে সাংবাদিক মোজাম্মেল আলম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার (২৬ নভেম্বর) দুপুরে আইসিটি আইনে একটি মামলা দায়ের করে বিজিবি।
 
সীমান্তের চোরাচালানীরা সুনামগঞ্জ ২৮ বিজিবি অধিনায়ক মাকসুদুল আলমকে প্রভাবিত করে রাসেল নামের এক বিজিবি নায়েককে বাদী সাজিয়ে মোজাম্মেল আলম ভূঁইয়া কে আসামী করে তাহিরপুর থানায় ঐ মামলাটি এফআইআর করায় বলে অভিযোগ উঠেছে। মামলা দায়েরের আগেই তাহিরপুর থানা পুলিশ উপজেলার বাদাঘাট বাজারের কামাড়পট্রি থেকে সন্ধ্যায় সাংবাদিক ও অভিনেতা মোজাম্মেল কে আটক করে। মোজাম্মেল স্থানীয় সাংবাদিক ও সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সদস্য জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়ার বড় ভাই। এছাড়াও সাংবাদিক মোজাম্মেল আলম ভূঁইয়া সাংবাদিকতার পাশাপাশি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সহকারী পরিচালক হিসাবে কাজ করছে। তিনি এর পাশাপাশি
নাটক রচনা,অভিনয় ও মডেলিং করেন। এ ঘটনায় জেলা ও উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। আটকের তীব্র  নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি সচেতন মহল ও সকল সাংবাদিকগন জগন্য এই হয়রানী ও উদ্দেশ্যমূলক মামলা প্রত্যাহারেরও দাবী জানিয়েছেন।

আমির উদ্দিন,শফিক মিয়াসহ জেলা ও উপজেলার সচেতন মহল জানান,সাংবাদিক মোজাম্মেল আলম ভূঁইয়া দেশের স্বার্থে,উঠতি বয়সী যুব সমাজকে রক্ষায় ও সরকারের রাজস্ব ফাকি দিয়ে চোরাই পথে আমদানী করা অবৈধ মালামালের ব্যাপারে সংবাদ প্রকাশ করেছে। সে কোন প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিকে হেয় প্রতিপন্ন করেনি। পরিকল্পিত মামলা দায়ের করিয়েছে চাঁদাবাজি মামলা ও চোরাচালানী মামলার আসামীসহ সরকার বিরোধী তথ্য সন্ত্রাসীরা। এটা পরিকল্পিত মামলা তা সুস্পষ্টভাবেই অনুধাবন করা যায়। 
 

তাহিরপুর উপজেলা সীমান্তে বসবাসকারী মানুষজন জানান,তাহিরপুর উপজেলার সৎ ও সাহসী সাংবাদিকতার জন্য ইতিপূর্বে একাধিক বার সীমান্তের চোরাচালানীদের হামলার শিকারসহ মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন মোজাম্মেল। বিচার প্রার্থী হলেও কোন বিচার পাননি। 

আইসিটি আইনে মামলা দায়েরের বিষয়ে সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া জানান,এই মামলাটি সম্পুর্ন উদ্দেশ্য প্রনোদিত। তাহিরপুর উপজেলা সীমান্তে চোরাকারবারীদের অপতৎপরতা নতুন কোন ঘটনা নয়।  আমার ভাই বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকার হাওরাঞ্চল প্রতিনিধি হিসেবে চোরাচালানীদের বিরুদ্ধে সংবাদ পরিবেশন করেছেন। মামলা করলে যেসব চোরাচালানীদের নামে সংবাদ হয়েছে তারা মামলা করতো বিজিবি কেন বাদি হয়ে মামলা করল তা বিজিবিই ভাল জানে।

বাংলাদেশ টুডে,দৈনিক জালালাবাদ ও দৈনিক সুনামগঞ্জ প্রতিদিন পত্রিকার তাহিরপুর প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম  বলেন,আমি আশা করবো আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর উর্ধতন কর্তৃপক্ষ সহ গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্বশীল লোকজন এই উদ্দেশ্যমূলক মামলার বিষয়টিতে সুনজর দিবেন। সেই সাথে আমার নিরীহ বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মিথ্যা মামলা দায়েরকারী জুলুমবাজ সরকারী কর্মকর্তা যে বা যারাই হউকনা কেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

আইসিটি আইনে মামলা এফআইআরের বিষয়ে তাহিরপুর থানার ওসি মোঃ আব্দুল লতিফ তরফদার বলেন,সুনামগঞ্জ ২৮ বিজিবির নায়েক রাসেল আইসিটি আইনে মোজাম্মেল আলম ভূঁইয়া কে আসামি করে তাহিরপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে।

সুনামগঞ্জ ২৮ বিজিবি অধিনায়ক কর্ণেল মাকসুদুল আলম বলেন,আমি সাংবাদিক মোজাম্মেল আলম ভূইয়াকে ফিজিক্যালি দেখিনি। তবে সে আমাকে বিভিন্ন সময় কল করে সীমান্ত সংবাদের ব্যাপারে বক্তব্য নেয়। আবার পরিবেশিত সংবাদে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন  করে রিপোর্ট করে। তিনি বলেন,আমি সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করিনি। আমাদের বিজিবি সদস্যদের কেউ হয়তো মামলা দায়ের করে থাকতে পারে।

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ নেতা করুনা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন,একজন সাংবাদিক সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে কারো সম্মানহানী ঘটালে তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্টভাবে আইন প্রয়োগ করার জন্য ক্ষুব্ধ ব্যক্তির প্রতিকার পাওয়ার অনেক পথ খোলা আছে। কিন্তু ঐ সাংবাদিক আদৌ কারো মানহানি ঘটালো কিনা ? এছাড়াও একজন সাংবাদিককে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়ার প্রয়োজন ছিল।   

আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি সুনামগঞ্জের সিনিয়র সাংবাদিক ও সংগীত শিল্পী আল-হেলাল বলেন,সাংবাদিক মোজাম্মেল আলম ভূইয়া দৈনিক মানবকন্ঠ ও মাইটিভির জেলা প্রতিনিধি পদে দায়িত্ব পালনকালে সাহসী সংবাদের কারনে তাকে একটি মামলায় ফাসিয়ে র‌্যাব দ্বারা আটক করিয়ে অন্যায়ভাবে হয়রানী করে একটি চক্র। বিজ্ঞ আদালত থেকে জামিন পেয়ে সে সাহসিকতার সাথে আবারও সাংবাদিকতায় বিশেষ করে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানীদের বিরুদ্ধে রিপোর্ট করে। এসব রিপোর্টের জন্য তাকে সরকারের স্বার্থ ও সুনাম রক্ষার জন্য পুরস্কৃত করা উচিত ছিল। কিন্তু বিজিবি কেন এবং কার স্বার্থে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যমূলকভাবে একটি সাজানো মিথ্যা বানোয়াট
ও হয়রানীমূলক মামলায় তাকে আটক করলো তার তদন্ত হওয়া দরকার। 

আপনার মন্তব্য