আজ বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর, ২০২০

আলোকিত উন্নত সিলেট’ গড়তে চাই

সরকারের এক বছর পূর্তিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের মতবিনিময়

 প্রকাশিত: ২০২০-০১-১৮ ১১:০৭:০৮

প্রথম ডিজিটাল শহর হচ্ছে সিলেট
গঠিত হবে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ
সিলেট-ঢাকা হবে ছয় লেন
নগরীতে স্থাপন হবে রিং রোড
সুরমার তীরকে দৃষ্টিনন্দন করা হবে
এ বছরই সিলেট থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট
বাসা-বাড়িতে নতুন করে গ্যাস সংযোগ নয়
ভূমিদস্যুদের ছাড় নয়

 

বড় ভাই সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের আদলে ‘আলোকিত উন্নত সিলেট’ গড়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এমপি। গতকাল শুক্রবার সিলেট সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে সিলেট-১ আসনের এমপি ড. মোমেন বর্তমান সরকারের সিলেটের ধারাবাহিক উন্নয়ন ও তার এক বছরের কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি এ ঘোষণা দেন।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনসহ সিলেটের উন্নয়নে গৃহিত বেশ কিছু মেঘা প্রকল্পের বর্ণনা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ১৯৯২ সালে ঢাকা সিলেট মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের কথা ছিলো। কিন্তু সেটা হয়নি। আবুল মাল আবদুল মুহিত অর্থমন্ত্রী হওয়ার পর সিলেটের উন্নয়ন দেখভালের জন্য তাকে (ড. এ কে আব্দুল মোমেন) দায়িত্ব দেন। তিনি নতুন করে ঢাকা সিলেট মহাসড়ক চারলেনে উন্নীতকরণের উদ্যোগ নেন। চায়না একটি কোম্পানীর কাজের অর্থ যোগান দেওয়ার কথা হলেও সেটা আটকে যায়। পরে ড. এ কে আব্দুল মোমেন এমপি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে কথা বলার পর এডিবি(এশিয়ান ডেভেলপম্যান্ট ব্যাংক) থেকে সিলেট ঢাকা মহাসড়ককে ৬ লেনে উন্নতকরণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। তিনি বলেন, ৬ লেনে উন্নতকরণ কাজের সবকিছু উপস্থাপন করা হয়েছে। এ নিয়ে তার সাথে ২৯ জানুয়ারি প্রকৌশলীদের বৈঠক হবে। মাস দুয়েকের মধ্যে টেন্ডার হবে এবং শিগগিরই ছয়লেন নির্মাণের কাজ শুরু হবে। এছাড়া যানজট নিরসনে সিলেটে দু’টি রিং রোড নির্মাণেরও পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উন্নয়ন সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এমপি বলেন, বিমানবন্দরের উন্নয়নে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট, সিলেট-ঢাকা সরাসরি রুট চালুসহ বিমানবন্দরের উন্নয়নে বিভিন্ন কাজ চলছে। এ বছরের মধ্যে সিলেট থেকে বিভিন্ন দেশে সরাসরি ফ্লাইট যাবে। সিলেট থেকে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার ফ্লাইট শিগগিরই চালু হবে বলে জানান মন্ত্রী।
রেল যোগাযোগ বিষয়ে তিনি বলেন, দু’একদিনের মধ্যে সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে পরিচালিত ট্রেনে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত নতুন বগির নতুন একটি ট্রেন চালু হবে। এছাড়া, আখাউড়া সিলেট রেল লাইন ডুয়েল গেজে উন্নীত করার বিষয়টিও অনুমোদিত হয়েছে। শিক্ষার উন্নয়নে গত এক বছরে অনেকগুলো প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সিলেট-১ আসনের ৬০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন ভবন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১২৮টি কলেজে আড়াই কোটি থেকে ৮ কোটি টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সিলেট মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য জায়গা ইতোমধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। খুব দ্রুত জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হবে।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রথম ডিজিটাল শহর হতে যাচ্ছে সিলেট। নাগরিক সেবার মান বৃদ্ধি করতে চালু করা হয়েছে ‘৩৩৩’ হেল্পলাইন সার্ভিস। ‘৩৩৩’ নাম্বারে ফোন দিয়ে মানুষ এখন ঘরে বসে ৫২টি সেবা পাচ্ছেন। এছাড়া প্রযুক্তির মাধ্যমে ঘরে বসে আরো ৩৪টি সেবা পাবে মানুষ। তবে এসব সেবা পেতে প্রাথমিক প্রযুক্তি জ্ঞান থাকতে হবে। সিলেট নগরীকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এতে নগরবাসীর নিরাপত্তা বৃদ্ধি পেয়েছে। অপরাধপ্রবণতা কমেছে। বাংলাদেশের মধ্যে সর্বপ্রথম সিলেটকে তারবিহীন নগরী গড়ার কাজ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে পাইলট প্রকল্পের একাংশের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করে ভূ-গর্ভ দিয়ে বিদ্যুৎ সঞ্চালন শুরু হয়েছে।
সিলেটে মা ও শিশু মৃত্যুর হার বেশি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এক সময় ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসার পরিবেশ ছিলো না বলে মানুষ মনে করতেন। কিন্তু, আমাদের সরকার ক্ষমতায় এসে ওসমানী হাসপাতালের সার্বিক উন্নয়ন করেছে। ওসমানী হাসপাতালের পাশাপাশি প্রসূতি মা ও নবজাতকের দ্রুত চিকিৎসায় ৩১ শয্যাবিশিষ্ট খাদিমপাড়া হাসপাতালের আউটডোর চালু করা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে জনবল নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। ওসমানী হাসপাতালে রোগীর চাপ কমাতে নগরীর চৌহাট্টায় ২৫০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে। ওসমানী হাসপাতালে সেবার মান বাড়াতে বহুতল নতুন ভবন নির্মাণ, নতুন আইসিইউ ইউনিট চালু ও শিশুদের জন্য এনআইসিইউ চালুসহ বিপুল পরিমাণ যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেট সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়নে এক হাজার দুইশ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ বরাদ্দ। সিলেটে সৌন্দর্য্য বর্ধন এবং জলাবদ্ধতা দূরীকরণে এসব অর্থ ব্যয় করা হবে।
সুরমা নদী ও তীর ঘিরে ‘দৃষ্টিনন্দন সিলেট’ গড়ার কথা উল্লেখ করে ড. মোমেন সিলেটকে পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সুরমা নদীর তীর উদ্ধার করে ওয়াকওয়ে নির্মাণ, ট্রাক ও বাস টার্মিনালগুলোকে আধুনিকায়ন করা, শাহপরাণ দরগা এলাকার সৌন্দর্য্যবৃদ্ধিসহ নগরীকে দৃষ্টিনন্দন করতে গৃহিত ও বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলো তুলে ধরেন। এছাড়া সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়নের জন্য ‘সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনে তিনি সরকারের কাছে প্রস্তাব করেছেন বলেও জানান। সিলেটসহ আরো দুটি নগরীতে এক সাথে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের ঘোষণা আসবে বলে জানান তিনি।
দেশের দারিদ্র্য সীমার হার অর্ধেকের নীচে চলে এসেছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন আর তলাবিহীন ঝুড়ির দেশ নয়। এ দেশ এখন ‘ল্যান্ড অব অপর্চুনিটি’র দেশ (সুযোগ সুবিধায় সমৃদ্ধ)। তিনি বলেন, যেখানে দরকার সেখানে সরকার উন্নয়নের জন্য অর্থ দিয়ে যাচ্ছে। তবে এসব টাকা যেন স্বচ্ছভাবে, ঠিকমতো ব্যবহার হয়, সেদিকে আমাদের নজর রাখতে হবে। সাধারণ মানুষকে খেয়াল রাখতে হবে সরকারের দেওয়া টাকা যেন যথাযথভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে কিনা-এ ব্যাপারে মিডিয়া কর্মীদেরও ভূমিকা রাখতে হবে।
বাসা-বাড়িতে নতুন করে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হবে না জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘নতুন করে গৃহস্থালীতের কোন ধরনের গ্যাস সংযোগ প্রদান করা হবে না। গৃহস্থালীর জন্য এলপিজি ব্যবহার করতে হবে। তবে শিল্প এলাকায় সংযোগ দেয়া হবে এবং কয়েকটিতে দেওয়াও হয়েছে।’
ভূমিদস্যুদের কোন ছাড় দেয়া হবে না জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, সিলেট সিটি মেয়রের উদ্যোগে এরই মধ্যে ‘ভূমিদস্যু’ সেল গঠন করা হয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ ব্যাপারে স্থানীয় সিভিল ও পুলিশ প্রশাসন তাকে সহযোগিতা করে যাচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, কেন্দ্রীয় সদস্য ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নাসির উদ্দিন খান, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, জেলা প্রশাসক এম. কাজী এমদাদুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন আহমদ প্রমুখ।

আপনার মন্তব্য