আজ মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০২০

বিশ্ববিদ্যালয়কে জ্ঞানতীর্থ হিসাবে গড়ে তুলতে হবে

শাবি’র তৃতীয় সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ

 প্রকাশিত: ২০২০-০১-০৯ ১২:৩৫:০৩

প্রাচ্য ও প্রতীচ্য জ্ঞানের সংমিশ্রন ঘটিয়ে দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়কে জ্ঞানতীর্থ হিসাবে গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। বাংলাদেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বমানের করে গড়ে তুলে, পৃথিবীর তাবৎ জ্ঞানের দরজা খুলে মানবজাতিকে কল্যাণ ও অগ্রগতির পথ দেখাতে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান। গতকাল বুধবার বিকালে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় সমাবর্তনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে সমাবর্তন

বক্তা ছিলেন-বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। বক্তব্য রাখেন-শাবিপ্রবির ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ও কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. আনোয়ারুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইশফাকুল হোসেন। সমাবর্তন উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে পুরাতন ও নবীন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা বসে। এ উপলক্ষে ক্যাম্পাসকে সাজানো হয় বর্ণিল সাজে।


বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘দেশে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিচর্চা ত্বরান্বিত করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন জেলায় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় এক্ষেত্রে প্রথম। শুধু প্রতিষ্ঠা ক্রমের দিক থেকেই নয়, শিক্ষা ও গবেষণাতেও বিশ^বিদ্যালয়টি তার শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে। বিশে^র বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় জয় লাভ করে পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশের সুনাম সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখছে এ বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শুধু তাই নয়, দেশ ও বিদেশের কর্মক্ষেত্রে এ বিশ^বিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটরা শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের মাধ্যমে দেশের সুনাম বয়ে আনছে।’


রাষ্ট্রপতি আরো বলেন, ‘পৃথিবীর সকল রাষ্ট্রই এখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নিজেদের শক্ত ভিত্তি গড়ে তুলছে। তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর নতুন এই বিশ্ব ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত যেকোনো অসামর্থ্যই দেশকে পিছিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। বাংলাদেশকেও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা অর্জন করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে নিরন্তর গবেষণা। নিত্যনতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও তার প্রসারের ওপরই নির্ভর করে দেশের সমৃদ্ধি।’


বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন পৃথিবীর বুকে শান্তিপূর্ণ উন্নয়নশীল একটি দেশ। দারিদ্র্য নিরসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নে বহির্বিশ্বে দেশটি এখন রোল মডেল। বিশ্বে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। বর্তমানে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ৮ শতাংশের ওপরে।

অর্থনীতিবিদদের ধারণা, ২০২৪ সাল নাগাদ এই হার হবে ১০ শতাংশের ওপরে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সময় এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এগিয়ে যাওয়ার। সময় এখন বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার, পথ চলবার। বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ও অগ্রযাত্রায় নারী-পুরুষ নির্বিশেষে দেশের সর্বস্তরের মানুষের অবদান খুবই প্রশংসনীয়। এ দেশের দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, পরিশ্রমী, উদ্যমী, লড়াকু ও সংবেদনশীল জনগণের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ উন্নয়ন ও অগ্রগতির কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জনে সফল হবে ইনশাল্লাহ।’
গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘যেকোনো দেশের উন্নয়ন ও ইতিবাচক পরিবর্তনে তরুণ সমাজ-ই মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে থাকে। আমাদের দেশও তার ব্যতিক্রম নয়। সুতরাং আজ তোমরা যারা গ্র্যাজুয়েট হলে, আমার সামনে এই যে তরুণ, তোমরা এক-একটি আলোর প্রদীপ, তোমাদের সকলকে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় এগিয়ে আসতে হবে। নিতে হবে দেশ ও জাতির দায়ভার।

তোমাদের মেধা ও শ্রমেই গড়ে উঠবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা। বিশ্ববিদ্যালয়ে কঠোর জ্ঞানতপস্যা ও শৃঙ্খলার মাধ্যমে তোমরা ডিগ্রি অর্জন করেছো। তোমরা ভালো করেই জানো তোমাদের বিদ্যালাভ ও সত্যিকার মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার পেছনে যারা শক্তি, সাহস ও অর্থ জুগিয়েছেন তাঁরা হচ্ছেন এ দেশের জনগণ। তাই বাংলাদেশের জনগণের প্রতি জীবনব্যাপী তোমাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা জাতি প্রত্যাশা করে।’
তিনি গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘সনদসর্বস্ব জ্ঞান দিয়ে কেউ নিজের ও দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে না। এজন্য প্রয়োজন অন্তর্গত প্রেরণা ও সুগভীর দেশপ্রেম; দেশের জন্য অগাধ আবেগ ও অকৃত্রিম ভালোবাসা। নিজেকে, নিজের শিক্ষাকে দেশ ও দশের কল্যাণের জন্য উৎসর্গ করার মানসিকতা অর্জন করতে হবে। অর্জন করতে হবে মানবিক মূল্যবোধ। প্রথমে স্থান দিতে হবে দেশের সাধারণ মানুষের স্বার্থকে, যাদের শ্রমের জোরে দেশ প্রাণবান হয়, জীবনের চাকা ঘোরে; তবে অর্জিত শিক্ষা সফল হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।’ রাষ্ট্রপতি শিক্ষার্থীদের মেধাশক্তি ও মানবিকতা দিয়ে আগামীদিনের সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
সমাজ থেকে সুনীতি চলে যাচ্ছে ॥ সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
সমাবর্তন বক্তা অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, জ্ঞানকে আমরা সনদের ওজনে মাপতে শুরু করেছি, তার উপর গবেষণাকে পশ্চিমা অনুসৃত পদ্ধতি ও প্রকাশনা শর্তের অধীনে এনে দেশীয় জ্ঞানকে গৌণ অবস্থানে ঠেলে দিয়েছি। এখন বেশিরভাগ বিশ^বিদ্যালয়ে গবেষণা সাধারণত চাকুরিতে স্থায়ী হওয়া এবং পদোন্নতি পাওয়ার লক্ষ্যে পরিচালিত হয় । এর একটি কারণ আমাদের উচ্চশিক্ষার সামনে-পিছনে পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়ে থাকা বাজার। এই বাজারের ভেতর চাকুরির বাজার আছে, যার সবচেয়ে কাক্সিক্ষত রূপটি সরকারি চাকুরি, আরও আছে কর্পোরেট বাজার, আছে মিডিয়া ও নানান পরিষেবাসহ ছোটবড় অনেক বাজার। প্রাথমিক পর্যায় থেকে আমরা মুখস্ত বিদ্যায় পারদর্শী পরীক্ষার্থী তৈরি করছি।
শিক্ষার ন্যায়নিষ্ঠতা ও মানবিকতা এই দুটি উদ্দেশ্যকে ক্রমাগত আমরা অবহেলা করে আসছি। শিক্ষার্থীদের সমাজ ও সংস্কৃতি থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছি। ফলে, আমাদের সমাজ থেকে সুনীতি চলে যাচ্ছে। সমাজের সংঘটিত বিভিন্ন অন্যায়কে স্বাভাবিক বলে মেনে নিচ্ছি। সমাজ যত বস্তুগত উন্নতির দিকে যাচ্ছে, তত তার নীতিনিষ্ঠতায় ভাঙ্গন ধরছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশের এবং সামাগ্রিকভাবে দক্ষিণ এশিয়ার বিশ^বিদ্যালয়গুলো কয়েকটি প্রকোষ্ঠে জ্ঞানকে নির্দিষ্ট করে বিশেষজ্ঞ তৈরিতে মনোনিবেশ করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পরীক্ষা ও ছকবাঁধা গবেষণা কার্যক্রম, ঘণ্টা মেপে পাঠ-সমাপনের আয়োজন। ফলে একদিকে যেমন বিষয় অনুযায়ী চিন্তার ঐক্য প্রতিষ্ঠা পেয়েছে অর্থাৎ পাঠ্যবই কেন্দ্রিক তথ্য সকলেই জ্ঞান হিসেবে গ্রহণ করে তা দিয়ে চিন্তাকে সাজাচ্ছেন। অন্যদিকে পাঠ্য বিষয়ের বাইরে অন্য কোনো বিষয় সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ তৈরি হচ্ছে না। কারণ আমাদের প্রচলিত শিখন ও শিক্ষা পদ্ধতি তা হতে দেয় না। চিন্তার গভীরতা, বৈচিত্র্য, গতিশীলতা এবং দূরগামিতা না থাকলে নতুন জ্ঞান তৈরি হয় না। আমরা ভালো মানের শিক্ষার্থী তৈরিতে যতটা উদ্যোগী, শিক্ষার্থী তৈরিতে ততটাই অমনোযোগী।
চিন্তার সক্রিয়তা না থাকলে, ছকের বাইরে বেরিয়ে চিন্তা না করতে পারলে চিন্তা সৃজনশীল, উদ্ভাবনী, বিদ্রোহী, একক-বিশিষ্ট এবং ভবিষ্যৎমুখী না হলে নতুনদের আবির্ভাব ঘটে না, সমাজে স্থিতাবস্থা বজায় থাকে এবং জাতির পরনির্ভরশীলতা দীর্ঘস্থায়ী হয়।
আমরা আলোকিত মানুষ চাই: শাবি উপাচার্য
সমাবর্তনে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিশ^বিদ্যালয়টি কেবল পরিধিতেই বাড়েনি, গুণগত উৎকর্ষ সাধনে হয়েছে বিকশিত ও বিশ^মানের। জ্ঞানসাধনা, গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তৈরি করেছে নিজের মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান। একটি সুবিন্যস্ত অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্ক ও পরিকল্পিত অটোমেশনের মাধ্যমে বিশ^বিদ্যালয়টি আজ দেশে সর্বোচ্চ মাত্রার ই-কন্টেন্ট ব্যবহারকারী ক্যাম্পাস; যে কারণে ইউনেস্কো আমাদের বিশ^বিদ্যালয় ও বুয়েটকে নিয়ে বাংলাদেশে ই-লাইব্রেরি নেটওয়ার্ক তৈরি করতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে আমাদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আধুনিক, বিজ্ঞানমনস্ক ও উন্নতমানের গবেষণা এবং একটি গবেষণাবান্ধব বিশ^বিদ্যালয় হিসেবে শাহজালাল বিশ^বিদ্যালয়ের পরিচিতি সর্বত্র। এখানের স্নাতকগণ দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলেও বিশেষ অবদান রাখছেন। বিশ^বিদ্যালয় শুধু জ্ঞানবিতরণের জায়গা নয়, জ্ঞান সৃষ্টিরও প্রধান ক্ষেত্র; সেদিকটি বিবেচনা করে আমাদের প্রাণপ্রিয় বিশ^বিদ্যালয়টির ছাত্র-শিক্ষকগণ গবেষণাতেই সবচেয়ে বেশি মনোযোগী। আমাদের বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা গবেষণায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশ-বিদেশ জুড়ে। এটি অত্যন্ত আশাপ্রদ ও গৌরবের ব্যাপার।
তিনি আরও বলেন, আজকের দিনে আমরা চাই আলোকিত মানুষ, আলোকিত সভ্যতা। আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ভালো মানুষের, কেননা ভালো মানুষই কেবল বড় মাপের মানুষ হতে পারেন। বড় মাপের মানুষ ছাড়া পৃথিবীতে বড় পরিবর্তন কখনো সম্ভব হয়নি। আমি গর্বের সঙ্গে উচ্চারণ করতে পারি যে আজ পর্যন্ত আমাদের শিক্ষার্থীরা দেশের বিভিন্ন অঙ্গনে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে কর্মদক্ষতার পরিচয় দিয়ে আসছেন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গবেষণা সংস্থা ও অন্যান্য কর্মক্ষেত্রেও আমাদের স্নাতকরা অত্যন্ত সফল। সেই ধারাবাহিকতায় আপনারা প্রতে কেই আমাদের মুখ উজ্জ্বল করবেন বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ^াস করি।
বিশ^বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিশ^বিদ্যালয়ের ২০০১-০২ শিক্ষাবর্ষ থেকে ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা সমাবর্তনে অংশগ্রহণ করেন। তৃতীয় সমাবর্তনে মোট ৬ হাজার ৭৫০ জন গ্র্যাজুয়েট অংশগ্রহণ করেন। সমাবর্তনে ২০ জন শিক্ষার্থীকে কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য রাষ্ট্রপতি স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ১০ জন শিক্ষার্থীকে স্নাতক ও ৫ জনকে স্নাতকোত্তর ফলাফলের জন্য এবং দ্বিতীয় সমাবর্তনে বাদ থাকা ৫ জনকেও স্বর্ণপদক দেওয়া হয়। সমাবর্তন অনুষ্ঠানের সভাপতি বিশ^বিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছ থেকে এ স্বর্ণপদক গ্রহণ করেন তারা।
প্রসঙ্গত, ১৯৯১ সালে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর দীর্ঘ ২৮ বছরে মাত্র দু'টি সমাবর্তন আযোজন করা হয়। ১৯৯৮ সালের ২৯ এপ্রিল প্রথম সমাবর্তন এবং এর ৯ বছর পর ২০০৭ সালের ৬ ডিসেম্বর দ্বিতীয় সমাবর্তন আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস, সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ডা. মোর্শেদ আহমেদ চৌধুরী, শাবির সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. আমিনুল ইসলাম, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আতিউর রহমান, লিডিং ইউনিভার্সিটির ভিসি প্রফেসর ড. কামরুজ্জামান চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার তাহমিদুল ইসলাম, ডিআইজি কামরুল আহসান, পুলিশ কমিশনার গোলাম কিবরিয়া, জেলা প্রশাসক কাজী এম এমদাদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন, সিলেটে নিযুক্ত ভারতের ডেপুটি হাই কমিশনার এল কৃষ্ণমূর্তি, আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, সিলেট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি লুৎফুর রহমান, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাসুক উদ্দিন আহমদ, জেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী এডভোকেট নাসির উদ্দিন খান ও মহানগর শাখার সেক্রেটারী অধ্যাপক জাকির হোসেন, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ, সিলেট প্রেসক্লাব সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকী, সিলেট চেম্বার সভাপতি এটিএম শোয়েবসহ শাবির বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও অধ্যাপকমন্ডলী ও গ্র্যাজুয়েটবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গতকাল বুধবার দুপুর ১২টা ৩২ মিনিটে রাষ্ট্রপতি হেলিকপ্টারযোগে ওসমানী বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। হযরত শাহজালাল (র.) ও হযরত শাহপরান (র.) এর মাজার জিয়ারত শেষে বেলা ৩টায় তিনি শাবির সমাবর্তনে যোগ দেন। বেলা সোয়া ৪টায় তিনি সমাবর্তনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। এরপর তিনি হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে ওসমানী বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।

আপনার মন্তব্য