আজ শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯

রক্ষক হয়েছে ভক্ষক, হাকালুকি হাওরে চলছে মাছ লুটের মহোৎসব

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৯-০৫ ১৩:০৫:৪৬

 হাকালুকি হাওরের অভয়াশ্রম বিলগুলোতে মাছ লুটের মহোৎসব চলছে। বিলগুলো দেখাশুনার দায়িত্বে থাকা মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভূমিকা পালন করছে এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

এতে সরকার যে উদ্দেশ্যে মৎস্যবিলের ইজারা বাতিল করে অভয়াশ্রম করেছিল তা ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

জানা গেছে, হাকালুকি হাওরে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি ও জীববৈচিত্র রক্ষায় বিভিন্ন সময়ে মোট ১৭টি বিলকে অভয়াশ্রম ঘোষণা করে ইজারা বন্ধ রাখা হয়। ২০১১ সালে অভয়াশ্রম ঘোষিত দু’টি জলমহাল পুনরায় ইজারা দেয়া হলে বিগত ৭-৮ বছর থেকে ১৫টি জলমহাল অভয়াশ্রম হিসেবে বহাল রয়েছে।

এ জলমহালগুলো রক্ষণাবেক্ষণের জন্য হাওরপারের বিভিন্ন ভিলেজ কনজারভেটিভ দলকে (ভিসিজি) দায়িত্ব দেয়া হয়। কিন্তু রক্ষকের দায়িত্বে থাকা এসব ভিসিজি ভক্ষকের ভূমিকায় নেমে পড়ে।

তারা অবৈধ বেড়জাল ও কাপড়ি জাল গ্রুপকে রাত প্রতি ৫ থেকে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিলে মাছ ধরতে দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরেজমিন হাওর ঘুরে দেখার সময় শ্রমিকরা জানান, হাকালুকির বড়লেখা উপজেলা অংশের তেতোনা অভয়াশ্রম বিল, টলার বিল, লঞ্চি বিল ও কানলিয়া বিলের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে ফেঞ্চুগঞ্জের বাদে দেউলি পূর্ব যুদিষ্টিপুর বহুমুখি সমবায় সমিতি ও আশিঘর (ঘিলাছড়া) বহুমুখি সমবায় সমিতি।

সমিতির নেতৃবৃন্দ জুড়ী উপজেলার বেলাগাওয়ের অবৈধ বেড়জাল ও কাপড়ি জালের মালিকদের কাছ থেকে রাতপ্রতি ৫ থেকে ১০ হাজার টাকায় মাছ ধরতে দিচ্ছে। এসব জেলেরা একেকটি অভয়াশ্রম বিল থেকে প্রতি রাতে ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকার মাছ লুট করছে।

শুষ্ক মৌসুমে অভয়াশ্রমের দায়িত্বপ্রাপ্ত ভিসিজি গোপন চুক্তিতে বিল বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। যার ফলে ব্যাপক রাজস্ব হারিয়ে যে উদ্দেশ্যে অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছিল তার সুফল সরকার পাচ্ছে না।

জেলা মৎস্য অফিসার মো. এমদাদুল হক জানান, হাকালুকি হাওরে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি ও জীববৈচিত্র রক্ষার জন্যই সরকার কয়েকটি বিলকে অভয়াশ্রম ঘোষণা করে। রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বপ্রাপ্তরা যদি মাছ লুটে জড়িয়ে পড়ে তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি বলেন, খোঁজ নিয়ে এ রকম কিছু পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মন্তব্য