আজ শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯

হবিগঞ্জ-লাখাই সড়কের বেহাল অবস্থা, চরম ভোগান্তিতে মানুষ

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৮-৩০ ১৬:১৩:২১

হবিগঞ্জ-লাখাই-সরাইল-নাছিরনগর সড়কের উন্নয়ন কাজ বন্ধ রাখায় রাস্তার বিভিন্ন স্থান ভেঙে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এতে যানবাহনে চলাচলে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

প্রায় প্রতিদিনই এই রাস্তায় ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। তাই রাস্তাটি দ্রত সংস্কারের জন্য দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

সূত্র জানায়, হবিগঞ্জ-লাখাই-সরাইল-নাছিরনগর সড়কের দূরত্ব মাত্র ২৫ কিলোমিটার। গুরত্বপূর্ণ এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করেন লাখাই, বানিয়াচং, বি-বাড়ীয়ার নাছিরনগর ও কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ।

সড়কটি আঞ্চলিক মহাসড়ক হিসাবে ঢাকা-সিলেট বিকল্প সড়কে রুপান্তরের কাজ চলমান রয়েছে। ২০১৭ সালের শেষের দিকে একনেক রাস্তাটি উন্নয়নে প্রায় দেড় শ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেন। এর মধ্যে ৫টি ব্রিজ রয়েছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে উন্নয়ন কাজ শুরু করেন মোজাহার এন্টারপ্রাইজ, তাহের বাদার্স লি. ও মাহফুজ খান নামের ৩টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

বলভদ্র সেতু থেকে কালাউক পর্যন্ত রাস্তার উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হলেও বিভিন্ন স্থানে উন্নয়ন কাজের পাথর, বালু ফেলে কাজ বন্ধ করে রেখেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এছাড়াও সড়কটি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার রিচি এলাকার সামনের দিক থেকে শুরু হয়ে বল্লা বাজার পর্যন্ত বিভিন্ন স্থান ভেঙে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে থাকে।

ভাঙা ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে যানবাহনগুলোতেও যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিচ্ছে। এতে চালক যে টাকা উর্পাজন করছেন সেই টাকা গাড়ি মেরামতেই খরচ করতে হচ্ছে। বর্তমানে রাস্তার অবস্থা করুণ। এই রাস্তা দিয়ে গর্ভবতি মায়েদের চলাচল স্বাভাবিকভাবেই খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।

এছাড়াও ২৫ কিলোমিটার রাস্তা অতিক্রম করতে সময় লাগছে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা। প্রায়ই ছোট বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। খানাখন্দে ভরা রাস্তায় ঝাঁকুনিতে মানুষের নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। দিনের পর দিন এই অসহনীয় অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে এর আগেও মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে স্থানীয় জনগণ।

ফেসবুকে লেখালেখি থেমে নেই। কিন্তু এতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। আবার রাস্তার যে অংশে কার্পেটিং সম্পন্ন হয়েছে সেখানে নিম্নমানের পাথর ও বালু ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। পাথরের সাথে যে পরিমাণ বালু মেশানোর কথা তার চেয়ে বেশি বালু মেশানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ইদানিং দ্রুত গতিতে সংস্কারের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে রাস্তার করুণ অবস্থার ছবি পোস্ট করে প্রতিবাদী বক্তব্য লিখছেন অনেকেই।

সরেজমিনে গিয়ে রাস্তার বেহাল দশা স্পষ্ট নজরে আসে। এ রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন চলাচলকারী সিএনজি অটোরিক্সা চালক শাকিল মিয়া জানান, বর্তমানে রাস্তার বিভিন্ন স্থান ভেঙে গর্ত হয়েছে। এই রাস্তায় গাড়ি চালাতে গেলে প্রতিদিনই গাড়ি মেরামত করতে হয়।

অতিরিক্ত ঝাঁকুনির কারণে রাতে শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। আবার অনেকেই অসুস্থ হয়ে যাচ্ছেন। রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার না করা হলে পরিবহণ চালকরা গাড়ি বন্ধ রেখে অন্য পেশায় চলে যেতে বাধ্য হবে।

বুল্লা বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মনিরুল আলম জসিম জানান, ঠিকাদার রাস্তার উন্নয়ন কাজ বন্ধ রাখার কারণেই এমন দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। এ রাস্তা দিয়ে যারা একবার চলাচল করেন, তারা আর এখান দিতে যেতে চান না। জনদুর্ভোগ লাগবের জন্য তিনি রাস্তাটির সংস্কার কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান।

লাখাই উপজেলার কাটিহারা গ্রামের সোহাগ চৌধুরী জানান, যারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন তাদেরকে চরম দুর্গতির মধ্যে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এটার চেয়ে গ্রামের মাটির রাস্তার অবস্থা অনেক ভালো।

লাখাই উপজেলার কবার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই কামাল জানান, রাস্তার নাজুক অবস্থার বিষয়ে আমার এলাকার জনগণ প্রতিদিন আমার কাছে অভিযোগ করছেন। আমরা এ বিষয়টি উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষ, সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যানকে অবগত করেছি। আমরা শুনেছি সংসদ সদস্য রাস্তার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করেছেন। এলাকাবাসীর স্বার্থে প্রয়োজনে ঠিকাদারের কাজ বাতিল করে নতুন করে ঠিকাদার নিয়োগ করার দাবি জানান তিনি।

এ ব্যাপারে লাখাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. শাহিনা আক্তার জানান, বলভদ্র সেতু থেকে কালাউক পর্যন্ত রাস্তার উন্নয়ন কাজ শেষ হয়েছে। বুল্লা, করাব এলাকাসহ কয়েকটি স্থানে রাস্তার উন্নয়ন কাজ বন্ধ থাকার কারণে সাধারণ জনগণকে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

সম্প্রতি আইন শৃঙ্খলা সভায় রাস্তাটিতে চলাচলে জনদুর্ভোগের কথা উপস্থাপন করেছি। আশা করছি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান শিগগিরই রাস্তার কাজ শুরু করবে।

এ ব্যাপারে লাখাই উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মুশফিউল আলম আজাদ জানান, হবিগঞ্জ-লাখাই-সরাইল-নাছিরনগর সড়কের উন্নয়ন কাজ বন্ধ থাকার ব্যাপারে গত ১৪ আগস্ট আইন শৃঙ্খলা সভায় উপস্থান করেছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঠিকাদারের সাথে যোগাযোগ করছেন।

এছাড়াও এমপি অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহির সড়ক বিভাগের প্রধান প্রকৌশলীর সাথে কথা বলেছেন। রাস্তার উন্নয়ন কাজ দ্রুত শেষ করা না হলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে কর্তৃপক্ষ।

এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সজিব আহমেদ জানান, আমি এখানে দুই দিন আগে যোগদান করেছি। বিস্তারিত জেনে বলতে পারব।

এ বিষয়ে ঠিকাদার মোজাহের এর সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

আপনার মন্তব্য