আজ শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯

বড়লেখা সীমান্তে নিহত যুবকের লাশ ফেরত দিল ভারতের পুলিশ

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৮-২৬ ০০:০৪:৫৫

 মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত বাংলাদেশী নাগরিক আব্দুর রূপের (৩৭) লাশ বাংলাদেশের পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে লাশ হস্তান্তর করেছে ভারতের পুলিশ। 

রবিবার (২৫ আগস্ট) বিকেল চারটা ৫০ মিনিটের সময় বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের বোবারতল এলাকার সীমান্ত খুঁটি ১৩৮০/৪-এস সংলগ্ন স্থানে লাশটি হস্তান্তর করা হয়। পরে আব্দুর রূপের লাশ তাঁর পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

লাশ হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন ভারতের করিমগঞ্জ জেলার পাথারকান্দি থানার ওসি সীমান্ত বড়–য়া ও বিএসএফ ১৩৪ ব্যাটেলিয়ানের এসি সন্তোষ কুমার এবং বাংলাদেশের পক্ষে বড়লেখা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জসীম ও বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) ৫২ ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক মো. মুমিনুল ইসলাম, ডা. শুভ্রাংশু শেখর দে প্রমুখ।

এর আগে বিকেল ৪টা ২০ মিনিটের দিকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও পাথারকান্দি থানার পুলিশ লাশ নিয়ে পৌঁছায়। এরপর আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

পরে সদর ইউনিয়ন পরিষদের নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান সিরাজ উদ্দিন ও নিহতের বড় ভাই আব্দুল গনি আব্দুর রূপের লাশ শনাক্ত করেন। 

বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (২৩ আগস্ট) দিবাগত রাতে ১০-১৫ জনের বাংলাদেশী নাগরিকের একটি দল বড়লেখা উপজেলার বোবারতলের উত্তর ডিমাই এলাকায় সীমান্ত খুঁটি ১৩৮২/১-এস সংলগ্ন স্থানের কাঁটাতারের বেড়া অতিক্রম করে ভারত সীমানায় অনুপ্রবেশ করে।

এসময় বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। বিএসএফের গুলিতে আব্দুল রূপ ঘটনাস্থলেই মারা যান। বিএসএফ তাঁর লাশ উদ্ধার করে ভারতে নিয়ে যায়।

অন্যরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। ঘটনার পর বিজিবি মৃত বাংলাদেশী নাগরিকের লাশ ফেরত আনতে বিএসএফের সাথে যোগাযোগ করে।

সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন শেষে গতকাল রোববার লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। আব্দুল রূপ বড়লেখা সদর ইউনিয়নের বিওসি কেছরিগুল (উত্তর) গ্রামের সজ্জাদ আলির ছেলে। তিনি ৩ সন্তানের জনক।

বড়লেখা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জসীম রবিবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টায় বলেন, ‘আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ গ্রহণ করা হয়েছে। পরে পরিবারের সদস্যদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

সে দেশে তাঁর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। কাগজপত্র আমরা দেখেছি।’ 

বিয়ানীবাজার বিজিবি ৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল ফয়জুর রহমান, এসপিপি, পিএসসি বলেন, ‘লাশ হস্তান্তর হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্নে দুইদেশের পুলিশ ছিলেন।

 

বিজিবি ও বিএসএফের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। আব্দুর রূপকে গুলিকে করে হত্যার বিষয়ে আমরা লিখিত প্রতিবাদ জানিয়েছি।

বিএসএফ জানিয়েছে, অনুপ্রবেশ করে নিহত আব্দুর রূপ তাদের উপর আক্রমন করেছে। কিন্তু এ বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করা যাচ্ছে না। যেহেতু ঘটনা ভারতের ভেতরে। বিজিবি’র জোরদারকৃত টহল কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’

 

আপনার মন্তব্য