আজ শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২০

‘ওয়াটসন ঝড়ে’ উড়ে গেলো সিলেট

 প্রকাশিত: ২০২০-০১-০৪ ১২:১১:২১

আগের ৪ ইনিংসে করেছিলেন মোটে ১৫ রান! তবে, এবার স্বভাবসুলভ ব্যাটিংয়ে হলেন ম্যাচসেরা। রংপুরের অস্ট্রেলিয়ান রিক্রুট শেন ওয়াটসনের ৩৬ বলে ৬৮ রানের ‘ঝড়ে’ এক প্রকার উড়েই গেছে স্বাগতিক দল সিলেট। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গতকাল শুক্রবার রংপুর রেঞ্জার্স ৩৮ রানে হারায় পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থাকা সিলেট থান্ডারকে। রংপুরের দেয়া ২০০ রানের টার্গেটে ৫ বল বাকি থাকতেই ১৬১ রানে থামে সিলেটের ইনিংস। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের ৩২তম ম্যাচে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন সিলেটের অধিনায়ক আন্দ্রে ফ্লেচার। ব্যাট করতে নেমে দুর্দান্ত শুরু করেন দুই ওপেনার নাঈম ও ওয়াটসন। এই দুইজনের কল্যাণে পঞ্চম ওভারেই চলে আসে দলীয় অর্ধশতক। ৫১ বলের উদ্বোধনী জুটিতে তারা তুলেন ৭৭ রান। ৩৩ বলে ৪২ রান করে নাইম ফিরলে ভাঙে এই জুটি। তবে ক্যামেরুন ডেলপোর্টকে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেটে ৬১ রানের আরেকটি জুটি গড়েন ওয়াটসন। ১৪ ওভার শেষে রংপুরের রান ছিল ১ উইকেটে ১৩৬। ১৫তম ওভারে এসে জোড়া আঘাত হানেন এবাদত হোসেন। ১৮ বলে ২৫ রান করা ডেলপোর্টকে ডানহাতি এই পেসার ফিরিয়ে দেন ওভারের দ্বিতীয় বলে। দুর্দান্ত ইয়র্কারে পরের বলেই ফেরত পাঠান ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা ওয়াটসনকে। এর আগেও ঠিক এমনই এক ডেলিভারিতে অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডারের উইকেট ভেঙেছিলেন এবাদত, গতকাল একইভাবে তাকে বোকা বানানোর পর আঙুল দিয়ে ২বারের সাফল্যের ইশারা করেন তিনি। স্বাভাবসুলভ স্যালুট দিয়ে উইকেট প্রাপ্তিও উদযাপন করেন এবাদত। ৩৬ বলে ৬ চার আর ৫ ছক্কায় ৬৮ রানের ইনিংসটি সাজান ওয়াটসন। অজি অলরাউন্ডারের ফেরার পর রানের গতি কিছুটা থমকে যায়। শেষদিকে মোহাম্মদ নবীর ১৬ বলে ২৩ আর ফজলে মাহমুদের ৮ বলে ১৬ রানের ছোট্ট দুটি ইনিংসে ভর করে দুইশ ছোঁয়া স্কোর গড়ে দলটি। সিলেটের এবাদত ২টি এবং সান্তোকি, রাদারফোর্ড ও মনির একটি করে উইকেট নেন।
জবাবে ২০০ রানের বিশাল টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে অধিনায়ক ফ্লেচার ও মজিদের ব্যাটে ভালো শুরু পায় সিলেট। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে সিলেট সেআকর বোর্ডে যোগ করে ৫৮ রান। তবে প্রথম ৬ ওভারের মধ্যেই হারায় দুই ওপেনার ফ্লেচার (১৯) ও মজীদকে (৭)। ওয়ান ডাউনে খেলতে নামা মিঠুন ও রাদারফোর্ড রানের চাকা সচল রেখে খেলতে থাকেন। ১০ম ওভারে মিঠুন ২২ বলে ৩০ রান করে মোহাম্মদ নবীর বলে আাউট হলে দলের স্কোর লাইন দাড়ায় ৩ উইকেটে ৮৮। রাদারফোর্ড একপাশ আগলে রেখে খেলতে থাকেন। একে একে আউট হন শফিক, রনি তালুকদার ও সোহাগ গাজী। একদিকে আস্কিং রানরেট, অপর দিকে ব্যাটসম্যানদের আসা যাওয়া। রাদারফোর্ড খেলছিলেন নিজের স্বভাবসুলভ খেলা। ১৭তম ওভারে ছোট্ট ভুলের কারণে রান আউটে কাটা পড়েন রাদারফোর্ড। তার আউটের পর ৭ বলে ১২ রান করে নাঈম দলের ব্যবধান কমিয়েছেন মাত্র। শেষ ওভারের প্রথম বলে সান্তোকিকে বোল্ড করে সিলেটের ইনিংসের জবনিকাপাত করেন মোস্তাফিজ। মনির হোসেন ‘এবসেন্ট হার্ট’ থাকায় ১৬১ রানেই থেমে যায় সিলেটের ইনিংস। মোস্তাফিজ, তাসকিন এবং গ্রেগরি ২টি করে উইকেট নেন। মোহাম্মদ নবি ও ডেলপোর্ট নেন একটি করে উইকেট।

আপনার মন্তব্য