আজ রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২০

জোর-জবরদস্তি কিংবা দলিল নিয়ে টানাটানি নয়,

আত্মশুদ্ধি-ই ঈমানের স্বাদ-গ্রহনের একমাত্র উপায়

 প্রকাশিত: ২০২০-০৫-১৯ ০৫:১১:১৯

ডেইলি সিলেট নিউজ:

প্রিয় পাঠকবৃন্দ, আসসালামু আলাইকুম।

আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। মাহে রমজানের রহমত, মাগফিরাত ও নাযাত মহান রাব্বুল ইজ্জত
আমাদের নছিব করুন। আমীন।

গত কিছুদিন ধরে বাংলাদেশের সোসাল মডিয়াতে একটি খুবই গুরুত্বপূর্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। আর সেটা হলো আহলে বাইত আলাইহিমুসসালাম গনের অন্যতম সদস্য মাওলা আলী র্কাধসঢ়;রামাল্লাহু ওয়াজহাহুল কারীম কে নিয়ে। তার সম্পর্কে মদ পানের আরোপ লাগানো নিয়ে তর্ক-বিতর্ক। ইমাম তিরমিজি ও আবু দাউদ সংকলিত কিতাবদ্বয়ে বর্নিত দু’তিনটি হাদিসে দু’তিন ধরনের বর্ননরার ভিত্তিতে আলোচনা চলছে। যাহোক এ সম্পর্কে সাধরণ মানুষ কিন্তু নির্লিপ্ত। আলেম সম্প্রদায় বা কুরআন ও হাদিস নিয়ে যারা পড়াশুনা করে ঐ লোকগুলোই বিতর্কে জড়িত।
ফেরকাবাজির কারনে বাংলাদেশ কিংবা ভারতীয় উপমহাদেশ বা পৃধিবীব্যাপি মুসলসলমারা দলে উপদলে বিভক্ত। তাই যার যার মতকে সে সে প্রচার, প্রসার, যুক্তি দ্বারা উপস্থাপন ও প্রমান করার চেষ্টা করে। তবে হাক্কানি ওলামায়কেরামের মত হলো একমাত্র আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আওতাভুক্তরাই ঠিকভাবে কুরআন ও সুন্নার অনুসারী। এ হিসাবে আবার সব দল উপদল নিজেদেরকে আহলে সুন্নতের আনুসারী বলে প্রচার করে। অবশ্য এ নিয়েও সাধারনের তেমন মাথাব্যাথা নেই, থাকার কথাও না। তারা আল্লাহকে ভয় করে আর রাসূল (দ:) এর নির্দেশিত পথে অতি সাধারণ ভাবেই ইসলামকে মানে ও কর্তব্য পালন করে। তাই বিভ্ধসঢ়;্রান্তি না ছড়িয়ে সত্যকে জেনে উপস্থাপন ও পালন করার মাঝেই মুক্তি ও শান্তি নিহিত। আমার আলোচনার উদ্দেশ্যও তাই। উল্লেখ্য, আমি অতি সাধারণ মানুষ, তাই ভুলের জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থী।
ঈমান সর্বদা দলিল ভিত্তক নয় বরং প্রকৃতি বা চারিত্রিক বৈশিষ্ট ভিত্তিক ও ব্যক্তি বা স্বাতন্ত্র্য কেন্দ্রীক। যেমন উবাই ইবনে সুলুল এক ধরনের চরিত্র বহন করলেও তার পুত্র অন্য চরিত্রের। আবার ইহুদি, নাসারা বা খৃষ্টানদের নিকট আল্লহর রাসূল (দ:) সম্পর্কে দলিল থাকলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তারা রাসূল করীম (দ:) এর প্রতি ঈমান আনেনি। এমনকি আল্লাহ কুরআনে মজিদে বলেন – ’ওরা আপনাকে [নবী (দ:)] নিজের সন্তানের চেয়েও ভালভাবে জানে/চেনে, কিন্তু ওরা ঈমান আনবে না। অর্থাৎ হেদায়েত দানকারী একমাত্র আল্লাহ, কোন দলিল নয়, এমনকি কোন নবী (আ:)ও নয়। পূর্ববর্তী সমস্ত নবীদের (আ:) প্রধান ওয়াদা ছিল রাসূল পাক (দ:) এর একচ্ছত্র রেসালতের অধিকারকে মেনে নেয়া (রূহ জগতে, দুনিয়া ও আখেরাতে) আর কাজ ছিল মহান রাব্বুল ইজ্জতের একচ্ছত্র আধিপত্য বা একাত্ববাদ প্রচার করা।
যাহোক, তাই আহলে বাইত (আ) গনের প্রতি কার কি আকিদা থাকবে তা নিশ্চয়ই দু’চারটে হাদিসের কিতাবের দলিলের ভিত্তিতে নয় বরং আল্লাহর আদেশে বা কুরআনের নির্দেশিত পথে হওয়াই বাঞ্চনীয়। যেহেতু আল্লাহ আহলে বাইতকে (আ) পুত-পবিত্র রাখার ঘোষনা দিয়েছেন, সুতরাং আমরা তাদেরকে পবিত্র মনে করেছি (যা হৃদয়ে গাথা অমূল্য সম্পদ), করছি এবং যুগে যুগে আহলে ঈমানগন তাই করবেন এই বিশ্বাস নিয়েই এ জমিন ত্যাগ করব, ইনশাল্লাহু রাব্বুল আলামীন।
আরেকটা বিষয় হলো, হাদিসের কিতাবের সংকলন কালীন উমাইয়া/আব্বাসীয় শাসনের প্রভাব দু’চারটে হাদিসের উপর থাকবেনা একথা হলফ করে কেউ বলতে পারবেনা। বরং প্রভাব থাকাটাই স্বাভাবিক, যেখানে আহলে বাইত (আ) এর সদস্যগনের ওপর মসজিদের এমনকি খুদবায় পর্যন্ত গালি দেয়ার রিতি চালু হয়েছিল। নাউজুবিল্লাহ! মায়াজাল্লাহ! আসতাগফিরুল্লাহ! এ অবস্থায় সম্মানিত আহলে বাইতের সদস্যদের প্রসংশা করলে হত্যা করা হত এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তারা পারলে আত্মগোপনে থাকতেন। সুতরাং অবস্থা দৃষ্টে কি হতে পারে আপনারা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন।
আবার ইসলামী দর্শন অথবা আধ্যাত্মবাদ বা সুফিবাদ - এ বিশ্বস করে যে, ’মানুষ আল্লাহ পর্যন্ত পৌছাতে পারে’ এবং এ পখে সিলসিলার সমস্ত শায়েখ-মাশয়েখ (র) এর সাথে আত্মিক সাক্ষাত ও প্রেমালাপ হয়। সবচেয়ে বড় কথা হলো এ পথে জয়নুল আবেদীন হয়ে ইমাম হোসাইন, ইমাম হাসান, সাইয়্যেদা মা ফাতেমা জোহরা এবং মাওল আলী (আ) গনের সাক্ষাত বা নজরে করম ব্যতিত অন্য কোন রাস্তা নাই। এভবে ক্রোমোর্ধ উরুজ বা ঊর্দ্ব গমন হাসিল হওয়ার পরিপ্রেক্ষেতেই রাসূল পাক সল্লাল্লাহু তায়াল আলইহি ওয়া সাল্লাম এর দিদার হাসিল হয় এবং নজরে করমে নবী (দ) দ্বারা মহান রাব্বুল ইজ্ধসঢ়;জত আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য লাভ করা যায়। আর এ অবস্থায় আল্লাহ বলেন - ’তাদের কোন ভয় নাই আর তারা চিন্তিতও হবেনা’ এবং ’ইয়া আইয়াতুহান্ধসঢ়; নাফসুল মুতমায়িন্নাৃ.......... ফাদখুলিফি ইবাদী ওয়াদখুলি জান্নাতি’ আর ’ইত্ত¡াকু ফেরাসাতুল মু;মিনিন’ ইত্যাদি। সুতরাং আহলে বাইতের ভালোবাসা ব্যতিত এ পখ রূদ্ধ বৈকি। আহলে সুন্নত ওয়াল জামাত যেহেতু সুফিবাদেও বিশ্বাসী, তাই তাদের আকিদাও উর্পযুক্ত বর্ণনার সাথে মিল থাকার কথা। বিপরীতে আরোপ কতইনা পরিতাপের। তাই আরোপ লাগানো কতটা ভয়াবহ নিশ্চয়ই চিন্তার দাবি রাখে। যেহেতু মাওলা আলী (আ) এর সাথে সাক্ষাতের (আত্মিক) সুযোগ আছে এবং মু’মিন যেহেতু আল্লাহর বন্ধু, তাই বন্ধুত্মের খাতিরে আপনার (আরোপকারী) নিশ্চয়ই বিষয়টি জানার সুযোগ আছে। অবশ্য আরোপকারী বন্ধু হওয়া অসম্ভব। তাই অক্ষরে নয়, বাস্তবে খুজুন ও আস্বাদন করুন ঐ সুমধুর ঐকতান আহাদ-আহমদ কিংবা মাহমুদ-মুহাম্মদ। সাম্ধসঢ়;ঝধার কে লিয়ে ইশরাই কাফি হায়। স্পষ্টতঃ এ পথে যারা ছিলেন অথবা আছেন তারা কখনোও দলিল দিয়ে উল্লিখিত ধরনের ধৃষ্টতা দেখানো তো দূরে থাক শায়খের বাড়ির নি¤œশ্রেনীর কোন প্রাণী দেখলে ওদের প্রতি পর্যন্ত কোন প্রকার অমর্যাদা প্রদর্শন করেননা। মাথায় শোভাদানকারী মুকুটের মর্যাদা পাগলেও বুঝে। আপনারা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন। তবে এমন অনেক আছেন (মজ্জুব) যারা প্রাথমিকভাবে বা কেউ কেউ শেষ পর্যন্ত নিজেদেরকে প্রচার যোগ্যভবে উপস্থাপনই করেন না। যেমন মূসা (আ) ও খিজির (আ) এবং আসহাবে কাহাব (আ) এর সম্মানিত সদস্যগণের ঘটনা কুরআনে বর্ণীত, শামস্ধসঢ়; তাবরীজ (র) ও মাওলানা রুমী (র) মসনবীতে বর্ণীত, ইমাম গাজ্জালীর (র) দর্শনে বর্ণীত, মুজাদ্দেদে আলফে সানী শায়খ ফারুক আহমদ ছেরহিন্দ (র) এর মকতুবাতে, আব্দুল হক মুহাদ্দিসে দেহলভী (র) এর মাদারেজুন্নবুয়াতে, রেজা খান বেরলভী (র) এর মুস্তফা জানে রহমত পে লাখো সালাম - এ বর্ণীত। এরকম অসংখ্য ইসলামী দর্শন শা¯্রে রাসূল করীম (দ.) ও আহলে বাইতের (আ) মর্যাদা সমুন্নত রেখেই (আল্লাহ সয়ং যাদের মর্যাদা উন্নীত রাখেন তাদের ব্যপারে বান্দার/গোলামের কিইবা অধিকার) ইসলাম, ঈমান ও আকিদা ধারণ ও কার্যপ্রনালীর মাধ্যমে রাব্বে বারি তাআলার নৈকট্য বা বন্ধুত্ব অর্জনের কথা বলা হয়েছে। আল্লাহর কছম, তর্কে জড়িত আলেমদের কেউই বর্ণীত শায়খদের পায়ের তলের মাটির সমতুল্যও নয়। আর এসব বাংলাদেশী আলেমনামী সার্টিফিকেটধারী লোকদের কেউই (প্রায়) যে মান্যবর শায়খদের পথে কিংবা ডিভাইনিটি/সুফিবাদ অথবা আল্লাহর নৈকট্য হাসিলের পথে নেই তা স্পষ্ট বৈকি। একদল আবেগ ধারী আরেক দল দলিল ধারী মুখপোড়া। এজন্যই বলা হয়ে থাকে বড় হয়ে মানুষের মত মানুষ হও, দলিল ধারী মুখপোড়া-জ্ঞানপাপী অমানুষ হয়ো না। আর জ্ঞান! যার দড়জা সয়ং মাওলা আলী (আ), কার ব্যাপারে আরোপ লাগাচ্ছেন! ইরাদা কি হে মোল্লা, মুক্তি না ধংস (দুনিয়া বিলাস)। সাবধাণ! এ অবস্থায় আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রর্থী। ক্ষমা চাই, মুক্তি চাই, আপনার বন্ধু হতে চাই, আপনার হাবীব (দ.) কে নয়ন জুড়ায়ে দেখতে চাই। আর দুনিয়াতে ও আখিরাতে আমি/আমরা সম্পূর্ণরূপে আপনারই মুখাপেক্ষী। তাই আপনাকেই স্মরি আপনারই রচিত মসিÍষ্ক দ্বারা, দেখি স্থাপিত চক্ষুযুগল দ্বারা, আর লিখি আপনারই দানকৃত হস্তযুগল দ্বারা। সবই আপনার, আপনার, এবং একমাত্র আপনারই। আপনিই হেদায়েত ও গোমরাহীর সৃষ্টিকারী, অর্পনকারী ও দানকারী। মহীয়ান, গরিয়ান, সর্বশক্তিমান, চিরকল্যানময়ী, চিরঞ্জীব, চিরউন্নত; তাই আপনারই তরে নত মস্তকে উচ্চারি আপনারই নির্দেশিত প্রসংশা স্তুতি ”আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামীন” স্মরি আপনারই হাবীবকে (দ.) ঘোষনা করেছেন ”রাহমাতাল্লিল আলামীন”। আর লিখেছেন যতি- ছেদহীন একটিমাত্র বাক্যে ”লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ” (সল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লিম) সবকিছু। সুপথ প্রাপ্তির কামনা করি ও সকলের সুপথ প্রাপ্তির জন্য আপনারই নিকট প্রার্থনা করি, আপনি কবুল করুন। আমীন! বিহুরমাতে সাইয়্যেদিল মুরসালিন সল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া বারিক ওয়া সাল্লিম।

মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম প্রেসিডেন্ট, ইসলামী ছাত্রসেনা,
সিলেট মহানগর, সিলেট, বাংলাদেশ।

আপনার মন্তব্য