আজ শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২০

বৃটেনের জনজীবনে যেন নব প্রাণের ছোঁয়া!

 প্রকাশিত: ২০২০-০৮-১৪ ১০:০৭:০৬

মরিয়ম চৌধুরী, ইংল্যান্ড থেকে:

আলহামদুলিল্লাহ আমাদের আশেপাশের পৃথিবীটা আবারো আগের মত স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে দেখে অনেক ভালো লাগছে।যেখানে কিছুদিন আগেও রাস্তাঘাটে চলাফেরা করার সময় একজন মানুষ আরেকজন কে দেখলে উল্টা দিকে হাঁটতে শুরু করত এখন আবার সবাই মোটামুটি হাসিমুখে চলাফেরা করতে শুরু করেছে।  সেটা দেখে অনেক ভালো লাগছে। ইংল্যান্ডের মানুষ জাতিগতভাবে খুবই ভদ্র একটি জাতি বলে আখ্যায়িত। তবে তাদের ভদ্রতার মধ্যে আমার কাছে যা সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে সেটা হচ্ছে রাস্তাঘাটে দেখা হলে একজন অন্যজনকে গুড মর্নিং, গুড ইভিনিং অথবা অন্ততপক্ষে একটা সুন্দর হাসি আপনার দিকে প্রেরণ করবেই। কিন্তু করোনাকালীন সময় সেটা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল দেখে মনটা খুব খারাপ লাগত।

ইংল্যান্ডের জনগণের এই চমৎকার ব্যবহার দেখে আমার সবসময় মনে হয় যে এই ব্যবহারটা কিন্তু আমাদের নবীর সুন্নত। আমাদের নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তোমরা একে অপরের সাথে হাসিমুখে সাক্ষাত করবে-এটিও ছাদাকাহ।
তবে এটা দেখলে অবাক লাগে অমুসলিম দেশের নাগরিকরা যে ব্যাপারটা এতো চমৎকার ভাবে পালন করে যাচ্ছে আমরা মুসলিমরাও কিন্তু ঠিক সেইভাবে পালন করি না।

যাক যে বিষয় নিয়ে লিখতে চাইছিলাম সেই বিষয়ে ফিরে আসি, গত মাসে ইংল্যান্ডের প্রাইম মিনিস্টার বরিস জনসন লকডাউন কে অনেকটা শিথিল করে দিয়েছেন এখন পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। যেখানে আগে নিয়ম ছিল দুই মিটার সোশ্যাল ডিসটেন্স আর এখন মিনিমাম এক মিটার ডিস্টেন্স করা হয়েছে। ব্যবসা বাণিজ্য দোকানপাট সবকিছু রিওপেন করা হয়েছে যাতে করে আস্তে আস্তে পরিস্থিতি আবার স্বাভাবিক হতে  শুরু করে। তবে প্রায় সবক্ষেত্রে সোশ্যাল ডিসটেন্স এবং মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক।

যুক্তরাজ্য সরকার অর্থনীতিকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে এবং স্থানীয় ব্যবসায়ে সহায়তা করতে আর্থিক পরিকল্পনা চালু করছে। এই স্কিম গুলির মধ্যে একটি হলো "ইট আউট টু হেল্প আউট স্কিম। এটা হচ্ছে সোমবার, মঙ্গলবার ও বুধবারে আপনি যদি কোনও রেস্তোরাঁয় খাবার খান, সরকার আপনার বিলের অর্ধেক মূল্য পরিশোধ করবে এটির উদ্দেশ্য হল রেস্তোঁরা গুলিতে যেতে এবং অর্থ ব্যয় করতে সবাইকে উত্সাহিত করা।

এই খবর শুনে এত দ্রুত গতিতে ইংল্যান্ডের জনগণের মধ্যে পরিবর্তন আমাকে খুব অবাক করেছে। আসলে আমরা মানুষ স্বভাবসুলভ ভাবে যে কত  হুজুকপ্রিয় আবারো তার প্রমাণ মিলে..!

ইংল্যান্ডে বছরের অধিকাংশ সময় আবহাওয়া অনেক ঠান্ডা থাকে আর জুলাই আগস্ট এই দুই মাস ভাগ্যবশত রৌদ্রোজ্জ্বল দিনের দেখা মিলে। এই কদিন থেকে ইংল্যান্ডের আবহাওয়া অনেক বেশি ভালো তার উপরে আবার সরকার রেস্টুরেন্টের খাবারের বিল অর্ধেক পরিশোধ করছে সেই সুবর্ণ সুযোগ কি করে হাত ছাড়া করা যায়??

তাই বিকেল বেলা রেস্টুরেন্টের দরজার বাইরে সারি বেঁধে ওয়েটিং এর লম্বা লাইন দেখে আমি মনে মনে ভাবি কিছুদিন আগেও করোনার ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে আমরা একে অন্যের দিকে তাকাতে পর্যন্ত ভুলে গিয়েছিলাম আর এখন কিনা সোশ্যাল ডিসটেন্স ভুলে হুজুগে পড়ে অতি প্রত্যাশিত গরম আবহাওয়া উপভোগ করতে ব্যস্ত আবার তার উপর সরকার যখন খাবারের অর্ধেক মূল্য পরিশোধ করে দিচ্ছে এই ধরনের লোভনীয় সময়ে কি আর করোনা নিয়ে এত চিন্তা করলে চলে..?

যাইহোক যুক্তরাজ্যে করোনাভাইরাস এখন অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আছে। কিন্তু সেকেন্ড ওয়েভ আসার একটা সম্ভাবনা আছে তেমনটি বরিস জনসন জানিয়েছেন তবে সেটা কবে এখনো জানা যায়নি।

আপনার মন্তব্য