আজ শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২০

ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তির সংশোধনীর প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উঠছে কাল

 প্রকাশিত: ২০২০-১০-১১ ০৯:৪১:৫৪

ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান সংক্রান্ত আইনের সংশোধনীর প্রস্তাব মন্ত্রিসভার আগামীকালের বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিলে চলতি সপ্তায় প্রেসিডেন্ট এ নিয়ে অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন।
সম্প্রতি দেশে একাধিক ধর্ষণের ঘটনায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা তৈরি হয়। সিলেটের এমসি কলেজে দলবদ্ধ ধর্ষণের পর নোয়াখালীতে নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় ক্ষোভ-ধিক্কার জানায় হাজার হাজার মানুষ। টানা প্রতিবাদী কর্মসূচি পালিত হচ্ছে রাজপথে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দিচ্ছেন এসব কর্মসূচিতে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। কেউ কেউ ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদ- করার দাবি জানান। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানিয়েছেন, জনগণের দাবির প্রেক্ষিতেই সরকার আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ব্যাপারে নির্দেশনা দিয়েছেন।

বাংলাদেশে বর্তমান আইনে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদ-। মৃত্যুদ-ের বিধানের প্রস্তাব নিয়ে সমাজ এবং আইনবিদদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, শাস্তির মাত্রা এখানে সমস্যা নয়। মৃত্যুদ-ের বিধান দিয়ে ধর্ষণ কমানো যাবে না। বরং আইনের সম এবং দ্রুত প্রয়োগই পরিস্থিতির উন্নতি আনতে পারে। অন্যদিকের বক্তব্য হচ্ছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডের বিধান ধর্ষণ নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে।

নবনিযুক্ত এটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন মনে করেন মৃত্যুদণ্ডের বিধান ধর্ষণ কমাতে পারে। এক্ষেত্রে দ্রুত বিচারের ওপরও জোর দেন তিনি। বলেন, কয়েকটি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হলে অন্যরা এ অপরাধ থেকে দূরে থাকবে। অন্যদিকে, ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদ- করার বিরোধিতা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, ধর্ষণের শাস্তি বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড করতে হলে তা করতে হবে ব্যাপক গবেষণা ও মতবিনিময় করে। এসব ছাড়া একতরফাভাবে ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বলে ঘোষণা করার উদ্দেশ্য স্বস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়া বা জনরোষকে প্রশমিত করা।  উল্লেখ্য ধর্ষণের জন্য মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি এরমধ্যে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে রয়েছে। এটি আর প্রসারিত করার প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন দ্রুত বিচার। মাদক ও পর্ণোগ্রাফির বিস্তার রোধ এবং  এবং ধর্ষকের উপর রাজনৈতিক প্রশ্রয়ের হাত সরিয়ে নেয়া।

আপনার মন্তব্য