আজ মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২০

রোগীদের দুর্ভোগ কমছেই না

 প্রকাশিত: ২০২০-০৬-১৮ ১১:০১:০৯

দেশে করোনা ভয়াবহরূপ ধারণ করেছে। প্রায় ঘরে ঘরে করোনার উপসর্গ রোগী। হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ছুটছেন রোগীরা। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ সর্বত্র। সীমাহীন দুর্ভোগের কথা বলছেন রোগীরা। রীতিমতো ভেঙে পড়েছে সামগ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থা। লাইনে দাঁড়িয়ে করোনার টেস্ট করাতে চেয়েও পারছে না অনেকে। কখনো বা লেগেছে চার পাঁচদিনও।

অক্সিজেন সংকট চরমে। আইসিইউর  জন্য রোগীদের  হাহাকার। সাধারণ শয্যাও মিলছে না  হাসপাতালে।

এদিকে, করোনাকালে বেসরকারি হাসপাতাল সেভাবে এগিয়ে আসছে না। সরকারের লাইসেন্স বাতিলের হুমকিতেও তেমন লাভ হচ্ছে না।

দেশে ইতিমধ্যে করোনা আক্রান্ত ৯৪ হাজার অতিক্রম করেছে। প্রায় ১৩শ’ মৃত্যুর তালিকা নিয়ে কাঁদছেন স্বজনরা। হাসপাতালে সিট না পেয়ে অনেকে ঘরেই চিকিৎসা  নিচ্ছেন। চিকিৎসা না পেয়ে ঘরেই মারা যাচ্ছেন। সাধারণ জ্বর-কাশি তো নয়ই, ক্যান্সার, হৃদরোগসহ অন্যান্য  রোগে আক্রান্তরাও চিকিৎসা পাচ্ছেন না
হাসপাতালে।  কিশোরগঞ্জের  ভৈরব উপজেলার ৬৫ বছর বয়সী করোনা উপসর্গ নিয়ে বাসায় চিকিৎসা নিয়েছেন এক রোগী। তিনি অভিযোগ করে বলেন, হাসপাতালে ঠাঁই হয়নি তার। এ জন্য বাসায় চিকিৎসা নিয়েছেন। একই উপসর্গের আরেক রোগী  ভোলা সদর উপজেলার মোহাম্মদ  সেলিম। হাসপাতালে সিট না পেয়ে বাসায় চিকিৎসা নিতে হয়েছে তাকে।

চিকিৎসার আশায় ছুটছে মানুষ। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা  মিলছে না। সরকারি হাসপাতালে রয়েছে ডাক্তার, নার্স ও মেডিকেল  টেকনোলজিস্ট সংকট। যদিও জরুরি ভিত্তিতে সরকার ২ হাজার চিকিৎসক ও ৫ হাজারের উপরে নার্স নিয়োগ দিয়েছে। তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। অন্যদিকে ১,০১৯ চিকিৎসকসহ ৩ হাজার ২৩৫ জন স্বাস্থ্যকর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। দুই  হাজারের উপরে কোয়ারেন্টিনে আছেন। ফলে চিকিৎসাসেবায় ব্যাপক বিঘ্ন দেখা  দিয়েছে সর্বত্রই। আগেই দেশে করোনার ভয়াবহতার পূর্বাভাস দিয়েছিল জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু সরকারের সমন্বয়হীনতা এবং মিনিটে মিনিটে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কারণে নাজুক অবস্থা বিরাজ করছে।
করোনা রোগী আরো বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি বাংলাদেশ সামাল দিতে পারবে কিনা জানতে চাইলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এম এ ফয়েজ  বলেন, পরীক্ষা বাড়ছে। রোগীও বাড়বে। একজনের কাছ থেকে অন্যজনে ছড়াচ্ছে। সরকারি হাসপাতাল ৩টি ভাগে কাজ করছে।

জরুরি বিভাগ থেকে আইসোলেশন করা হচ্ছে। নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। কোভিড-১৯ হলে তাকে করোনার সুবিধা দিচ্ছে। না হলে অন্য বিভাগে নিয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে করোনার রোগীর সংস্পর্শে যারা এসেছেন তাদের শনাক্ত করা। ১৪ দিনে রোগীর সংস্পর্শে কারা এসেছেন তাদেরকে নির্ণয় করার বিষয়টি বিশাল কর্মকাণ্ড। তাদেরকে শনাক্ত করে  কোয়ারেন্টিন করতে পারছেন কিনা। করতে না পারলে সংখ্যা বাড়তেই থাকবে। এক্ষেত্রে সকলকে সম্পৃক্ত করতে হবে। করতে পারলে রোগী কমবে। প্রয়োজনে হাসপাতাল বাড়বে। তাতে লাভ হবে কম। সকলকে সম্পৃক্ত করতে পারলে সুফল বেশি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাসপাতালে সাধারণ চিকিৎসা ব্যবস্থার হ-য-ব-র-ল চিত্রই খবর আসছে।  করোনার চিকিৎসা না পাওয়া অন্যদিকে করোনার আতঙ্কে হাসপাতালগুলোকে সাধারণ জ্বর-সর্দি, কাশি এমনকি ক্যান্সার, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে গেলেও ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে। অধিকাংশ  ক্ষেত্রেই মিলছে না কোনো চিকিৎসা। জ্বর-সর্দি, কাশি হলেই করোনা আক্রান্ত হতে পারেন এই ভয়ে চিকিৎসকরা দিচ্ছেন না চিকিৎসা। করোনা আক্রান্ত রোগী এসেছেন কিংবা করোনায় মৃত্যুবরণ করেছেন- এমন সন্দেহে হাসপাতাল ছেড়ে ডাক্তারের পালিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে। বিনা চিকিৎসায় মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে পূর্ব  রাজাবাজার এলাকায়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব  মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) করোনার টেস্ট করাতে এসে টেস্ট না করিয়ে এবং চিকিৎসা না পেয়ে লাইনে দাঁড়িয়েই মারা গেছেন আবদুর রাজ্জাক নামের মোহাম্মদপুরের এক কাপড় ব্যবসায়ী। দিন দিন পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাচ্ছে।

আপনার মন্তব্য