আজ মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২০

আরো দুই জন করোনায় আক্রান্ত

দেশে করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ জনে

 প্রকাশিত: ২০২০-০৩-১৮ ১১:১২:০৪

দেশে আরো দুই জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৬ জনের নমুনা সংগ্রহের মাধ্যমে পরীক্ষা করার পর এ দু’জনের শরীরে করোনার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এ নিয়ে দেশে করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ জনে।

গতকাল করোনা ভাইরাস নিয়ে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা এই তথ্য জানিয়েছেন। ডা. ফ্লোরা জানান, নতুন করে যে দুজন আক্রান্ত হয়েছেন, তারা পুরুষ। একজন ইতালি থেকে আসা, আরেজন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা এক ব্যক্তির সংস্পর্শে ছিলেন। ইতালিফেরত ব্যক্তি আমাদের তত্ত্বাবধানে কোয়ারেন্টিনে ছিলেন। তার শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।

অপর একজন আমেরিকাফেরত এক প্রবাসীর সংস্পর্শে আসার মাধ্যমে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। সে অন্য একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মীরজাদী সেব্রিনা বলেন, আমেরিকাফেরত করোনা আক্রান্ত ওই রোগী আমেরিকা চলে গেছেন। তার সংস্পর্শে আসা সকলকে খুঁজে বের করে পর্যবেক্ষণের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এছাড়া আক্রান্ত ওই রোগীর বিষয়ে দূতাবাসে জানানো হয়েছে। দেশে এখন মোট ১৬ জন আইসোলেশনে আছেন। প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছেন ৪৩ জন। নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ২৭৭টি। আইইডিসিআর’র গত ২৪ ঘণ্টায় ফোন কল এসেছে ৪ হাজার ২০৫টি।

এরমধ্যে করোনা সম্পর্কিত কল ৪ হাজার ১৬৪টি। এর আগে গত ৮ই মার্চ দেশে প্রথমবারের মতো তিনজন করোনায় আক্রান্ত হওয়ার তথ্য জানায় আইইডিসিআর। পরে ১৪ই মার্চ আরো দুজন করোনায় আক্রান্ত হওয়ার কথা জানায় সরকার। এদের মধ্যে তিনজন সুস্থ হয়ে যান। ১৬ই মার্চ আরো তিনজন আক্রান্ত হওয়ার তথ্য জানায় আইইডিসিআর।

 

দেশে করোনায় মোট ১০ জন সংক্রমিত হলেও তিনজন সুস্থ হয়ে যাওয়ায় এখন চিকিৎসাধীন আছেন ৭ জন। যাদের ৫জন স্থানীয়ভাবে বিদেশ থেকে আসা ব্যক্তিদের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়েছেন। স্থানীয়ভাবে আক্রান্তকারীরা সবাই পরিবারের সদস্য। গার্মেন্টস শিল্পের কর্মীদের প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক বলেন, এই শিল্পে অনেক মানুষ এক সঙ্গে কাজ করেন। যদি কারো মধ্যে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ বা লক্ষণগুলো দেখা দেয় তাহলে ওই কর্মীকে স্ববেতনে ছুটি দিয়ে বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা করার জন্য কোম্পানির মালিকদের প্রতি আহবান জানান। গণমাধ্যম কর্মীদের প্রতি আহবান জানিয়ে ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, সাধারণদের জন্য যে বার্তা গণমাধ্যম কর্মীদের জন্যও একই বার্তা। বারতি হিসেবে বলছি, করোনা আক্রান্তদেরকে যে হাসপাতালে রাখা হয়েছে সেখানে নাই যাই। বিমান বন্দর ও হজ ক্যাম্পে কারো সাক্ষাৎকার নিলে এক মিটার দূরত্ব বজায় রেখে এবং মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। দেশে স্কুল-কলেজ বন্ধ করার অর্থ হচ্ছে অতিরিক্ত সতর্কতা। এজন্য উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো পরিস্থিতি এখনও তৈরি হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন। সামাজিক অনুষ্ঠান বন্ধ রাখার জন্য বলেছেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে করোনা ভাইরাসের হাত থেকে সুরক্ষিত থাকতে নাগরিকদের করণীয় তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক। তিনি আবারো সরাসরি আইইডিসিআর’র নমুনা দিতে না আসার অনরোধ করেছেন। তাদের হটলাইনে যোগাযোগ করতে বলেছেন।

প্রসঙ্গত, চীনের উহান শহরে প্রথম শনাক্ত হওয়া করোনা ভাইরাস বিশ্বের ১৬২টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে বিশ্বব্যাপী ৭ হাজারের ওপরে মারা গেছেন। বিভিন্ন দেশে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৮২ হাজারে  বেশি। হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭৯ হাজারের বেশি।

আপনার মন্তব্য