আজ শনিবার, ০৬ Jun, ২০২০

বিশ্বজুড়ে জেঁকে বসেছে করোনা ভাইরাস

 প্রকাশিত: ২০২০-০৩-১৬ ১০:৫৫:১৪

বিশ্বজুড়ে জেঁকে বসেছে করোনা ভাইরাস। একদিকে ভাইরাসটি বিস্তারের প্রাণকেন্দ্র চীনে এর প্রাদুর্ভাব কমে এসেছে। অন্যদিকে কয়েকগুণ বেশি গতিতে বেড়েছে অন্যান্য দেশে। ইউরোপে ভাইরাসটির আগ্রাসন কোণঠাসা করে ফেলেছে জনজীবন। দেশে দেশে জারি হচ্ছে নিষেধাজ্ঞা। মানুষ থেকে মানুষে ছড়ানোর সক্ষমতা থাকলেও, সীমান্ত পার করে ছড়ানোর হারও কম নয় করোনার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইউরোপকে বর্তমানে করোনা ভাইরাসের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। সংস্থাটির প্রধান ড. টেডরোস আধানম ঘেব্রেয়েসাস সব দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন অত্যধিক জোরালো পদক্ষেপ নিতে, জীবন রক্ষা করতে সামাজিক দূরত্ব বাড়াতে।

সতর্কতার অংশ হিসেবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এক দেশের সঙ্গে অন্য দেশের যোগাযোগ। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বানিজ্যিক সম্পর্ক। করোনার মাত্রা বাড়ায় গতকাল রাত থেকেই যুক্তরাজ্য ছাড়া পুরো ইউরোপ থেকে বাংলাদেশে আসা বন্ধ হয়ে গেছে। আগেই বন্ধ ছিল আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে বিমান যোগাযোগ। প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে আসা যাওয়া বন্ধ করে দেয়া হয়েছে দুই দিক থেকেই। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃতের হার দেখা গেছে ইতালিতে। সেখানে সুপারমার্কেট ও ফার্মেসি ছাড়া সকল ব্যবসা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ইতালিকে অনুসরণ করে স্পেন আর ফ্রান্সও ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সুদূর প্রসারী বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। ঘোষণা করা হয়ছে জরুরি বিধি নিষেধ। অত্যাবশ্যকীয় দ্রব্য, ওষুধ কেনা অথবা কাজে যাওয়া ছাড়া ঘর থেকে লোকজনের বের হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। স্পেনে ভাইরাসটি শনিবার নতুন মাত্রায় ছড়িয়ে পড়েছে। নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১৫০০ মানুষ। মারা গেছেন ১৯১ জন। অন্যদিকে ফ্রান্সে মারা গেছেন ৯১ জন। আক্রান্ত হয়েছেন কমপক্ষে ৬৩০০ মানুষ। সব ক্যাফে, রেস্তোরাঁ, সিনেমা হল, দোকানপাট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

ইতালিতে কমপক্ষে মারা গেছেন ১৪৪০ জন। সেখানে গত সোমবার থেকে শুরু হয়েছে ‘লকডাউন’। ওদিকে বৃটেনে গত ২৪ ঘন্টায় মৃতের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। সেখানে এখন মৃতের সংখ্যা ২১। আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ১৪০ জন। সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে চিঠি লিখেছেন কমপক্ষে ২০০ বিজ্ঞানী। বৃটিশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানকক জানান, এখন পর্যন্ত বৃটেনে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া প্রত্যেকের বয়স ৬০ বছরের বেশি ছিল বা তাদের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল ছিল।

ভবিষ্যতে এই হার কমাতে ৭০ বছরের বেশি বয়সী ও শারীরিক অবস্থা দুর্বল এমন ব্যক্তিদের নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে রাখা হবে। তাদের কাছে পৌঁছে দেয়া হবে প্রয়োজনীয় খাদ্য ও ওষুধ। রোববার থেকে ইসরাইলে আংশিক অর্থনৈতিক ‘শাটডাউন’ কার্যকর হবে। সেখানে শপিং সেন্টার এবং রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকবে। করোনা আতঙ্কে জেরুজালেমের পবিত্র আল আকসা মসজিদ এবং ডোম অব দ্য রকের দরজা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসলামিক ওয়াক্‌ফ ডিপার্টমেন্ট। তবে আউটডোরে বা মসজিদের বাইরে নামাজ আদায় করার অনুমতি থাকবে। আল আকসা মসজিদের পরিচালক ওমর কিসওয়ানি বলেছেন, ইসলামিক ওয়াক্‌ফ ডিপার্টমেন্ট মসজিদের ভেতরে নামাজ আদায়ের স্থানগুলো পুরো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরবর্তী নোটিশ না দেয়া পর্যন্ত।

করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া রোধে এমন নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তবে আল আকসা মসজিদের উন্মুক্ত স্থানে সব রকম নামাজ আদায় করা যাবে।
স্পেনের মোট জনসংখ্যা ৪ কোটি ৬৭ লাখ। শনিবার দিন শেষে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এবং তার স্ত্রী বেগোনা গোমেজের দেহে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ পাওয়া গেছে। তারা দু’জনেই মাদ্রিদে লা মনক্লোয়াতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে অবস্থান করছেন। তবে তারা ভাল আছেন। শুক্রবার সন্ধ্যা নাগাদ নতুন করে ১৮০০ মানুষের দেহে এই ভাইরাস শনাক্ত হয়। ফলে সেখানে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রী স্প্যানিশদেরকে ঘরের বাইরে বের হতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। তবে অত্যাবশ্যকীয় জিনিসপত্র, ওষুধ কিনতে হলে কেউ বাইরে যেতে পারবেন। পারবেন কাজে যেতে। সব জাদুঘর, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, স্পোর্টস ভেন্যু বন্ধ রয়েছে।

অন্যদিকে শুধুমাত্র হোম ডেলিভারি দিতে পারবে রেস্তোরাঁ ও ক্যাফে কর্তৃপক্ষ। ব্যাংক ও পেট্রোল স্টেশনের মতো জরুরি সেবাখাতগুলো খোলা থাকবে। আর স্কুল, কলেজ তো বন্ধই আছে সারা দেশে। এই সঙ্কটের সময়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার জন্য শনিবার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী সানচেজ। আদর্শগত মতপার্থক্যকে দূরে সরিয়ে রেখে নাগরিকদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এখানে জরুরি অবস্থা অব্যাহত থাকবে দু’সপ্তাহ পর্যন্ত। ১৯৭৫ সালে গণতন্ত্র প্রবর্তনের পর এটাই স্পেনে দ্বিতীয় জরুরি অবস্থা। এর আগে প্রথম জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১০ সালে। তখন এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলারদের ধর্মঘটের জন্য জরুরি অবস্থা দেয়া হয়েছিল।

তুরস্কে সৌদি আরব থেকে উমরাহ পালন শেষে ফেরত যাওয়া কয়েক হাজার মানুষকে কোয়ারেন্টিনে রাখার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কায় তাদের সাময়িক সময়ের জন্য আলাদা করে রাখা হবে। শনিবার কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, প্রায় ২১ হাজার মানুষ উমরাহ পালন শেষে ফেরত যাওয়ার কথা রয়েছে তুরস্কে। তবে তাদের সবাইকে কোয়ারেন্টিনে নেয়া হবে কিনা সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

রয়টার্স জানায়, স্থানীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ফুটেজ ও ছবিতে দেখা গেছে যে, সৌদি আরব থেকে উমরাহ পালন করে যাওয়া ব্যক্তিদের বাসে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তাদের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ডরমিটরিতে কোয়ারেন্টিন করে রাখা হবে। এখন পর্যন্ত তুরস্কে করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি সনাক্ত হয়েছে ছয় জন। কোনো মৃত্যুর ঘটনা না ঘটলেও ভাইরাসটি নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ জোরদার করেছে আংকারা। বহু দেশে ফ্লাইট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে।
এদিকে, ইরানে করোনা ভাইরাসে (কভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ৭২৪ জনে পৌঁছেছে। রোববার দেশটির এক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এমনটা জানান। এক টুইটে তিনি লিখেন, গত ২৪ ঘণ্টায়ই মারা গেছেন ১১৩ জন। এ ছাড়া, পুরো দেশজুড়ে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ১৪ হাজার মানুষ। করোনা ভাইরাস নিয়ে তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠেছে দেশটির বিরুদ্ধে।

ইরানি আইনপ্রণেতাসহ অনেকে দাবি করেছেন, মোট মৃত ও আক্রান্তের সংখ্যা সরকারের দেয়া তথ্যের চেয়ে অনেক বেশি। সম্প্রতি কওম শহরে ইরান সরকার গণকবর খুঁড়ছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এতে তথ্য গোপনের দাবি আরো জোরদার হয়েছে। করোনা আতঙ্কে জরুরি অবস্থা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রও। স্থানীয় সময় শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রামপ এক ঘোষণায় দেশজুড়ে এ জরুরি অবস্থা জারি করেন। সেখানে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৭০০ জনের বেশি। মারা গেছেন ৫০ জনের বেশি।

এর আগে ট্রামপ ইউরোপের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। করোনা মোকাবিলায় পদক্ষেপ জোরদার করেছে ফিলিপাইনও। রাজধানী ম্যানিলায় রাত্রিকালীন কারফিউ জারি করা হয়েছে। আগে থেকেই সেখানে স্কুল, সরকারি অফিসসহ সব কিছু বন্ধ রয়েছে। এর আগে এ সপ্তাহে করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করেন প্রেসিডেন্ট দুতের্তে। এর মধ্যে রয়েছে স্থল, আকাশ ও সমুদ্র বন্দর দিয়ে রাজধানী ম্যানিলার সঙ্গে অভ্যন্তরীণ সব যোগাযোগ বন্ধ থাকবে।

এদিকে, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে যে কেউ পৌঁছার পর থেকে তাকে ১৪ দিন পর্যন্ত স্বেচ্ছায় কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন ও নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরডেন এ নির্দেশ দিয়েছেন। স্কট মরিসন এক ব্রিফিংয়ে বলেছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ কার্যকর হবে রোববার গ্রিনিচ মান সময় দুপুর একটা থেকে। একই সঙ্গে বিদেশি প্রমোদতরী আগামী ৩০ দিন অস্ট্রেলিয়ায় নোঙর করার ক্ষেত্রে থাকবে নিষেধাজ্ঞা। তবে সেখানে স্কুল খোলা থাকবে। এর আগের দিন একই রকম ঘোষণা দেন জাসিন্দা আরডেন। করোনা ভাইরাস আতঙ্কে গতকাল ১৫ই মার্চ ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে গুলি করে ৫১ জন মুসলিমকে হত্যার প্রথম বার্ষিকীর অনুষ্ঠান বাতিল করেছেন তিনি। আরো একধাপ এগিয়ে গিয়ে দেশে ভিসা দেয়াই নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। আগামী ১৭ই মার্চ থেকে সব রকম এন্ট্রি ভিসা দেয়া আপাতত বন্ধ করছে। তবে এর বাইরে থাকবেন কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীরা।

সারা দেশে ২৩১৪ জন কোয়ারেন্টিনে
করোনা ভাইরাস ঠেকাতে বিদেশ থেকে আসা সারা দেশে দুই হাজার ৩১৪ জন প্রবাসী হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন। এদের অনেককেই হোম কোয়ারেন্টিনের সরকারি নির্দেশনা মানছেন না। তারা হাট-বাজারসহ এদিক সেদিক ঘুরা ফেরা করছেন। চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছেন। আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে বেড়াচ্ছেন। এমন খবর সরকারের কাছে আসছে প্রতিদিনই। এতে করে দেশে করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) বলেছে, যারা কোয়ারেন্টিনের নিয়ম মানছে না তাদের খোঁজ খবর তাদের কাছে আছে। স্থানীয় লোকজনও তাদের ফোন করে জানাচ্ছেন। বিদেশ ফেরতরা যদি ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন নিয়ম না মানেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। গতকাল মহাখালীতে আইইডিসিআরের সম্মেলন কক্ষে করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত ব্রিফিংয়ে আইইডিসিআর’র পরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা এসব কথা বলেন।

তিনি জানান, করোনা ভাইরাসের বিস্তাররোধে গোটা বাংলাদেশে ২ হাজার ৩১৪ জন হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন। ডা. ফ্লোরা বলেন, দেশের সমস্ত সিভিল সার্জন তাদের এই তথ্য জানিয়েছেন। এছাড়া আক্রান্ত দেশ থেকে যারা আসবেন, তাদের সবাইকে নজরদারিতে রাখা হবে। প্রশাসন, স্থানীয় পর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা তাদের ওপর নজর রাখবেন। তারা কোনো নিয়ম না মানলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এর আগে এক ব্রিফিংয়ে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক বলেছিলেন, সরকার সহানুভূতিশীল হয়ে দেশে আসা প্রবাসীদের স্বেচ্ছায় কোযারেন্টিনের অনুরোধ করেছে। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে মানা হচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। গত ৮ই মার্চ প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে তিনজন করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়। এ বিষয়ে আইইডিসিআর পরিচালক বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রটোকল অনুসারে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আক্রান্ত ব্যক্তির নমুনা পরীক্ষায় নেগেটিভ ফলাফল এলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে করোনা সংক্রমণমুক্ত ঘোষণা করা হয়। প্রকোটল অনুসারে নমুনা পরীক্ষার পর প্রথমে ১৩ই মার্চ দুজনকে করোনামুক্ত এবং ১৫ই মার্চ আরেকজনকে করোনামুক্ত ঘোষণা দেয়া হয়েছে। ১৪ই মার্চ রাতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক সংবাদ সম্মেলন করে জানান, বাংলাদেশে আরো দুইজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এ বিষয়ে ডা. ফ্লোরা জানান, তাদের একজন ইতালিফেরত, আরেকজন জার্মানিফেরত। তাদের আমরা এনেছি, হাসপাতালে রেখেছি। তারা ভালো আছেন।

তারা দু’জনই পুরুষ। তাদের একজনের বয়স ২৯ বছর। অপর জনের বয়স ৪০ বছর। এদের মধ্যে একজনের উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস রয়েছে। দু’জনই জ্বর, সর্দি ও কাশি নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। তিনি আরো জানান, ২৪ ঘণ্টায় ২০ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে কারো শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়নি। ৪ জন হাসপাতালে কোয়ারেন্টিনে এবং ১০জন আইসোলেশনে রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।আইইডিসিআর পরিচালক বলেন, ইতালি থেকে রাতে দুইটি ফ্লাইটে ৭২ জন এবং ৪৮ জন দেশে এসেছেন। তাদের মধ্যে ৪৮জনকে গাজীপুরের পূবাইলে এবং ৭২ জনকে হজ ক্যাম্পে পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য নেয়া হয়েছে। এছাড়া সকালে আরেকটি ফ্লাইটে ১৫২ জন ইতালি থেকে দেশে ফিরেছেন। তাদেরকেও পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য হজ ক্যাম্পে নেয়া হয়েছে। অন্যদিকে গত ১৪ই মার্চ ইতালি থেকে দেশে ফিরা সকলকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার জন্য হজ ক্যাম্প থেকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। বিদেশ থেকে আসলে সরাসরি আইইডিসিআর না আসার আবারো অনুরোধ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক। এতে করোনা ভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকি থাকে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্কুল-কলেজ বন্ধ এবং নির্বাচন বন্ধের বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিবে। প্রসঙ্গত, চীনের উহান থেকে ৭৬ দিনে বিশ্বের প্রায় দেড় শতাধিক দেশ ও অঞ্চলে এই ভাইরাস ছড়িয়েছে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে সাড়ে ৫ হাজারেরও বেশি মানুষ। আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় দেড় লাখ মানুষ।

ঢাবি বন্ধ হবে কিনা সিদ্ধান্ত আজ, অনশনে চার শিক্ষার্থী
বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস পরীক্ষা বন্ধের দাবি জোরালো হচ্ছে। এ দাবিতে গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানকে স্মারকলিপি দিয়েছে ডাকসু। মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে দাবি আদায়ে গত শনিবার রাত থেকে অনশনে রয়েছেন চার শিক্ষার্থী। গতকাল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনও ক্লাস পরীক্ষা সাময়িক বন্ধে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। এমতবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও নিজেদের করণীয় ঠিক করতে আজ সভা ডেকেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান ও ইনস্টিটিউটের পরিচালকরা এ সভায় উপস্থিত থাকবেন। সেখান থেকে ক্লাস পরীক্ষা বন্ধ হবে কিনা সিদ্ধান্ত আসবে। এ বিষয়ে ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, আগামীকাল (আজ) সকাল ১০টায় আমাদের সভা আছে। করোনা ভাইরাস নিয়ে আমরা ইতিমধ্যে ভাবছি। কিভাবে শিক্ষার্থীদের এর থেকে সুরক্ষা দিতে হয় তা নিয়ে আমরা কাজ করছি। সভা থেকে আমরা সিদ্ধান্ত নেব যে আমরা ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ করবো কিনা। এছাড়া এ ভাইরাস থেকে সুরক্ষায় আর কী কী করা যায় সেসব বিষয়েও সিদ্ধান্ত হবে সভায়।

এদিকে গতকাল করোনা ভাইরাসের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় সাময়িক বন্ধের দাবিতে ভিসিকে স্মারকলিপি দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। ডাকসুর এজিএস সাদ্দামের নেতৃত্বে এ স্মারকলিপি ভিসির হাতে তুলে দেয়া হয়। এছাড়া স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় আরো কয়েকটি দাবি করা হয়।
এদিকে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধের দাবিতে অনশনে বসেছেন চার শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। শনিবার রাত ৯টা থেকে সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে তারা এই কর্মসূচি শুরু করেন। অনশনে বসা শিক্ষার্থীরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন, ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি বিভাগের মো. হাসান বিশ্বাস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কে এম তূর্য, একই বিভাগের ইয়াসিন আরাফাত প্লাবন এবং মনোবিজ্ঞান বিভাগের মোহাম্মদ জুনায়েদ হোসেন খান। এরা সবাই তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত।

অনশনকারী জুনায়েদ হোসেন খান বলেন, আমরা সবাই জানি যে, করোনা এখন গ্লোবাল ইস্যু এটা মহামারি আকার ধারণ করেছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশেও এর সংক্রমণ হচ্ছে। এই ভাইরাস খুব দ্রুত ছড়ায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস উন্মুক্ত একটি জায়গা। এখানে সব ধরনের মানুষের প্রবেশ ও চলাচল রয়েছে। আর শিক্ষার্থীদের তুলনায় ক্যাম্পাস অনেক ছোট। তিনি বলেন, খুবই গাদাগাদি করে হলে থাকতে হয়। ক্লাস করতে হয়। যেখানে ৮০ জনের ক্লাস করার কথা সেখানে ১৫০-২০০ জন অংশ নেন। এমন অবস্থায় এই ভাইরাসের সংক্রমণ হলে তা দ্রুত সময়ের মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে। যার কারণে আমরা একটাই দাবি উত্থাপন করেছি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থে ক্যাম্পাস বন্ধ রাখতে হবে।

ওদিকে একই দাবিতে মানববন্ধন ও ভিসি বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিভিন্ন বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা। গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে তারা এ মানববন্ধন করেন। এতে বিভিন্ন বিভাগের প্রায় দেড়শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়। মানববন্ধনে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী শওকক হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ অভিভাবক ভিসি স্যারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, আপনি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ও হলের অবস্থা বিবেচনা করে সমস্ত একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ করুন, যেন আমরা সুস্থভাবে মায়ের কোলে ফিরে যেতে পারি। মানববন্ধনে তারা তিনটি দাবি উপস্থাপন করেন। সেগুলো হলো- অতিদ্রুত করোন ভাইরাস শনাক্তকরণে মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করা; করোনাভাইরাসে কেউ আক্রান্ত হয়ে থাকলে তার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত রাখা।

 

আপনার মন্তব্য