আজ শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২০

দেশে করোনা ভাইরাসে তিনজন আক্রান্ত : আইইডিসিআর

প্রতিরোধে সব ধরণের ব্যবস্থা রয়েছে , ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা নেই

 প্রকাশিত: ২০২০-০৩-০৯ ১০:১৯:৪৬

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত তিনজন শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে দুজন পুরুষ, একজন নারী। এদের বয়স ২০ থেকে ৩৫ বছর। তবে, করোনা রোগীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। গতকাল রোববার করোনা প্রসঙ্গ নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) এর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা এ কথা জানিয়েছেন।তিনি বলেন, তাদের মধ্যে দুজন ইতালির দুটি শহর থেকে সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন। এদের মধ্যে একজনের সংস্পর্শে আসায় পরিবারের আরেক সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন।

অধ্যাপক ফ্লোরা বলেন, দুজন দেশে আসার পর তাদের উপসর্গ দেখা দেয়। আমাদের হটলাইনে ফোন দিলে আমরা তাদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠাই। সেখানে দুজনের টেস্টের ফলাফল পজেটিভ আসে। মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, তাদের সবার অবস্থাই স্থিতিশীল। তিনজনকেই হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, সারা বাংলাদেশে করোনা ছড়িয়ে পড়ার মতো কোনো পরিস্থিতি হয়নি। স্কুল-কলেজ বন্ধ করে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি হয়নি।

করোনা প্রতিরোধে প্রয়োজন না হলে জনসমাগমে না যাওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়ে সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, করোনা প্রতিরোধে সব ধরণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা নেই। প্রত্যেকের মাস্ক পড়ে ঘুরে বেড়ানোর কোনো দরকার নেই। আপাতত স্কুল-কলেজ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রয়োজন নেই। নভেল করোনাভাইরাস মূলত শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায়। এর লক্ষণ শুরু হয় জ্বর দিয়ে, সঙ্গে থাকতে পারে সর্দি, শুকনো কাশি, মাথাব্যথা, গলাব্যথা ও শরীর ব্যথা।

সপ্তাহখানেকের মধ্যে দেখা দিতে পারে শ্বাসকষ্ট। উপসর্গগুলো হয় অনেকটা নিউমোনিয়ার মত। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো হলে এ রোগ কিছুদিন পর এমনিতেই সেরে যেতে পারে। তবে ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদযন্ত্র বা ফুসফুসের পুরোনো রোগীদের ক্ষেত্রে ডেকে আনতে পারে মৃত্যু। নভেল করোনাভাইরাস এর কোনো টিকা বা ভ্যাকসিন এখনো তৈরি হয়নি। ফলে এমন কোনো চিকিৎসা এখনও মানুষের জানা নেই, যা এ রোগ ঠেকাতে পারে। আপাতত একমাত্র উপায় হল, যারা ইতোমধ্যেই আক্রান্ত হয়েছেন বা এ ভাইরাস বহন করছেন- তাদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা।

চিকিৎসকরা বলছেন, সংক্রমণ এড়াতে চাইলে ঘন ঘন হাত ধোয়া ভালো। সেই সঙ্গে নিত্য ব্যবহার্য সামগ্রীও নিরাপদ রাখতে হবে। গত ডিসেম্বরের শেষদিকে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়, যা ইতোমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে প্রায় ১০০ দেশ ও অঞ্চলে। বিশ্বজুড়ে ১ লাখ ৫ হাজারের বেশি মানুষ এ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে; মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ৫৯৫ জনের।এর আগে সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইতালিতে সাতজন বাংলাদেশি নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেও বাংলাদেশে এই প্রথম কারও মধ্যে এ ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়লো।কভিড-১৯ নাম পাওয়া এ রোগ নিয়ে ‘ঘাবড়ানোর কিছু নেই’ মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার ওসমানী মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে বলেন, “স্বাস্থ্য সুরক্ষার নির্দেশনাগুলো মেনে চলতে সকলকে আমি অনুরোধ জানাচ্ছি।”

আপনার মন্তব্য