আজ রবিবার, ০৮ ডিসেম্বর, ২০১৯

৬২’র শিক্ষা আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে

 প্রকাশিত: ২০১৮-১২-০৬ ২০:২৯:৪৬

৫৪’র নির্বাচনে জয়ের পরও আওয়ামী লীগসহ যুক্তফ্রন্টকে বেশি দিন ক্ষমতায় থাকতে দেয়া হয়নি। ১৯৫৮ সালে ক্ষমতা দখল করে একনায়ক আইয়ুব খান কণ্ঠ রোধের চরম পর্যায়ে নিয়ে যায়। তারপরও ৬২’র শিক্ষা আন্দোলনের মাধ্যমে ছাত্ররা আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে সারা দেশের মানুষকে যুক্ত করে, যা পরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে স্বাধিকার আন্দোলনে।

আওয়ামী লীগসহ যুক্তফ্রন্টকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়ে সামরিক শাসন জারির পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থাকে সংকুচিত করতে ১৯৫৯ সালের ২৬ আগস্ট শরীফ কমিশন গঠন করে জান্তা সরকার।

১৯৬১ সালের একুশে ফেব্রুয়ারিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এক হয়ে শরীফ কমিশন বাতিল, সামরিক শাসনের অবসান ও ২১ দফার ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্ত্বশাসনের জন্য আন্দোলনের সূচনা করে, পরবর্তীতে যা রূপ নেয় শিক্ষা আন্দোলনে।

শিক্ষানীতি বাতিলের দাবিতে ১৯৬২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ডাকা হরতালে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। শিক্ষার্থীদের মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত হয় গোলাম মোস্তফা, গনি ও ওয়াজিউল্লাহ, আহত হয় অসংখ্য মানুষ। পরে এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে।

এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ছাত্র ও জনগণের মধ্যে যে চেতনারস্ফুরণ ঘটে, তাই ভবিষ্যতের পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় শাসনের বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলনের ভিত রচনা করে।

বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন যে শিখা প্রজ্জ্বলিত করেছিল তার ধারাবাহিকতায় ৬ দফা আন্দোলন, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান এবং একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ।

আপনার মন্তব্য