আজ শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯

আজ লক্ষ্মীপুর হানাদার মুক্ত দিবস

 প্রকাশিত: ২০১৮-১২-০৪ ১৫:০২:১১

আজ ৪ ডিসেম্বর লক্ষ্মীপুর হানাদার মুক্ত দিবস। এর আগে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের পুরো সময় জুড়ে নৃশংস হত্যা, লুট, অগ্নিসংযোগ ও ধর্ষণের ঘটনায় ক্ষত-বিক্ষত ছিল লক্ষ্মীপুর। পাক-হানাদার বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসর রাজাকার-আলবদরই এখানে নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালায়। অবশেষে ১৯৭১ সালের এই দিনে বীর মুক্তিযোদ্ধারা সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করে। তাদের হাত থেকে হত্যা, লুট, আর পাশবিক নির্যাতনের থেকে মুক্ত করা হয় জেলার হাজার হাজার মানুষকে । 

লক্ষ্মীপুরকে হানাদার মুক্ত করতে মুক্তিযোদ্ধারা দীর্ঘ ৯ মাস জেলার বিভিন্ন স্থানে পাক হানাদার বাহিনীর সাথে ২২ টি সম্মুখ যুদ্ধসহ ২৯টি দুঃসাহসিক অভিযান চালায়। এতে শহীদ হন ৩৫ জন মুক্তিযোদ্ধাসহ কয়েক হাজার মুক্তিকামী বাঙ্গালী। পাক-হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ করতে গিয়ে সর্বপ্রথম মুক্তিযোদ্ধারা লক্ষ্মীপুর শহরের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া রহমতখালী খালের ওপর নির্মিত মাদাম ব্রিজটি উড়িয়ে দেন। আজও এর স্মৃতি হিসেবে ব্রিজের লোহার পিলার দাঁড়িয়ে আছে। 

৭১ এর মুক্তিযুদ্ধকালীন এ জেলায় উল্লেখযোগ্য রণক্ষেত্রগুলো হলো- কাজির দিঘীর পাড়, মিরগঞ্জ, চৌধুরী বাজার, দালাল বাজার, রায়পুর আলীয়া মাদ্রাসা, ডাকাতিয়া নদীর ঘাট, চর আলেকজান্ডার সিড গোডাউন, প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়, রামগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়, রামগঞ্জের গোডাউন এলাকা। যুদ্ধে লক্ষ্মীপুর জেলায় ৩৫ জন মুক্তিযোদ্ধাসহ শতাধিক লোক শহীদ হয়েছেন। সদর উপজেলায় ২৩ জন, রামগতিতে ২জন, কমলনগর ১জন, রায়পুরে ৭জন ও রামগঞ্জে ২জন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। 

এ সব যুদ্ধে আবু ছায়েদ, আবদুল হালিম বাসু, রবীন্দ্র কুমার সাহা, মাজহারুল মনির সবুজ, মুনছুর আহাম্মদ, চাঁদ মিয়া, মো. মোস্তফা মিয়া, জয়নাল আবেদিনসহ ৩৫ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ হাজার হাজার নিরীহ মুক্তিকামী মানুষ শহীদ হন। 

১৯৭১ সালের ১ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল হায়দার চৌধুরী, সুবেদার আব্দুল মতিন, আ.ও.ম. শফিক উল্যা, হামদে রাব্বীর নেতৃত্বে প্রায় দেড় শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে হানাদার বাহিনীর বিভিন্ন ক্যাম্পে। অবশেষে ৪ ডিসেম্বর আত্মসমর্পণ করে হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা।

আপনার মন্তব্য