আজ শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯

ইংরেজি ব্যাকরণের ভুল নিয়ে হাইকোর্টের রুল

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৭-২৯ ২২:৪৮:২২

 চতুর্থ শ্রেণি থেকে স্নাতক শ্রেণি পর্যন্ত জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) অনুমোদিত চৌধুরী অ্যান্ড হোসাইন, বাবুল চন্দ্র শীল, প্রফেসর এফ এম আব্দুল রব, সায়মা প্রসাদ ঘোষ, ফিরোজ মুকুল, সাইফুর রহমান খানের লেখা ইংরেজি ব্যাকরণ বইয়ের ভুল নিয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

আদালত এসব লেখকের ইংরেজি ব্যাকরণ বই কেন অশুদ্ধ, অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি এসব লেখকের ইংরেজি গ্রামার বইয়ের প্রকাশনা, বিপণন বন্ধের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না- রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) হাইকোর্টের বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

শিক্ষা সচিব, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)’র মহাপরিচালক, প্রশাসক সমিতির সভাপতি, জাতীয় পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)’র চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এনসিটিবি অনুমোদিত বিভিন্ন লেখকের ইংরেজি ব্যাকরণের ভুল বিষয়গুলো যুক্ত করে গাজিপুরের কোনাবাড়ি কলেজের ইংরেজি বিভাগের সাবেক শিক্ষক মো. হেলাল উদ্দিন পাটোয়ারীর করা রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে আজ এ আদেশ দিলেন আদালত।

রিটের পক্ষে শুনানি করেন মো. মোজাম্মেল হক। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী তানভীর আহমেদ ও আইনজীবী সাকিব মাবুদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

রিটকারী পক্ষের আইনজীবী মো. তানভীর আহমেদ বলেন, চতুর্থ শ্রেণি থেকে স্নাতক পর্যন্ত এনসিটিবি অনুমোদিত যেসব ইংরেজি ব্যাকরণ বই আছে, তার প্রায় সবগুলোতেই ব্যাকরণগত নানা ভুল রয়েছে।

তিনি বলেন, এসব গ্রামার বইয়ের প্রত্যেকটিতেই ‘নাউনকে’ ‘প্রোনাউন’ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘অ্যাডভান্স লার্নার্স কমিউনিকেশন অ্যান্ড ইংলিশ গ্রামার অ্যান্ড কম্পোজিশন’ বইটি চতুর্থ থেকে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্য। ওই বইয়ে ‘Bangladesh, Dog, Dhaka ইত্যাদি শব্দকে pronoun হিসেবে দেখানো হয়েছে।

তাছাড়া person মূলত সাতটি- i, you, we, he, she, it, they হলেও এসব গ্রামার বইয়ে me, us, my, our, ours, tho, the, your, yours, him -সহ দেখানো হয়েছে ২৫টি।

এনসিটিবি অনুমোদিত প্রায় প্রতিটি ইংরেজি ব্যাকরণ বইয়ে এ ধরনের ভুল রয়েছে বলে দাবি করেন এই আইনজীবী।

তিনি বলেন, বিগত ১২ বছর ধরে বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের এভাবে ভুল ইংরেজি শেখানো হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের ইংরেজির ভিত্তি দুর্বল হচ্ছে।

এই আইনজীবী বলেন, ইংরেজি আমাদের মাতৃভাষা না হলেও আন্তর্জাতিক ভাষা। ইংরেজি যাদের মাতৃভাষা তারা কিন্তু ব্যাকরণগত কোনো পরিবর্তন, পরিমার্জন আনেনি। কিন্তু আমাদের দেশে ইংরেজি গ্রামারের লেখকরা ভুলভাবে নানা পরিবর্তন, পরিমার্জন, সংশোধন এনেছেন। ইংরেজি শিক্ষার্থীদের জন্য সহজভাবে শেখার সহজ পদ্ধতি ভুলভাবে প্রবর্তন করেছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় ইংরেজিতে মাত্র দুই জন শিক্ষার্থীর উত্তীর্ণ হওয়ার উদাহরণ টেনে তানভীর আহমেদ বলেন, বিভিন্নভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব সংশোধনে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। এতে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের সংবিধান প্রদত্ত শিক্ষার মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন করছে।


সৌজন্যে : পূর্বপশ্চিম

আপনার মন্তব্য